স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী:
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনসচেতনতা, আগাম প্রস্তুতি এবং সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নীলফামারীর ডিমলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’। দিবসটি উপলক্ষে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র নাথ রায়,উপজেলা মাধ্যমিক ব্যানবেইচ অফিসার শাহানুর আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, মহিলা বিএনপির নেত্রী অধ্যাপিকা সেতারা সুলতানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাষক, আবুল কাশেম এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার মাদব চন্দ্র রায়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে জানতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
আলোচনা সভায় দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা, আগাম সতর্কবার্তা অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় উদ্ধারকৌশলবিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া (মক ড্রিল) প্রদর্শন করা হয়। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ পরিচালনা, নিরাপদে সরে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের কৌশল তুলে ধরা হয়।