হারাধন সূত্রধর, পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণা পৌরসভার চলমান ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং পৌরসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোণা জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
পৌর প্রশাসক মুন মুন জাহান লিজার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক।
সভায় বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট নুরুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার মো.তরিকুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজান আনোয়ার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী কুতুব উদ্দিন শাহ্, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ আফরিন সুলতানা।
এছাড়াও সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নেত্রকোণা পৌরসভার চলমান উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি, বিদ্যমান সমস্যা এবং নাগরিক সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে পৌর এলাকার সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষে নানা প্রস্তাব ও করণীয় বিষয়ে মতামত গ্রহণপূর্বক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভাপতি ও অতিথিবৃন্দ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরবর্তী তিন মাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম কতটুকু অগ্রগতি লাভ করেছে, তা মূল্যায়নের জন্য আগামী তিন মাস পর পুনরায় পর্যালোচনা সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পরিশেষে, নেত্রকোণা পৌরসভাকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নাগরিকবান্ধব ও জনসেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।