মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলার শতাধিক পরিবার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের মোঃ মাইনুদ্দিনের ছেলে মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ বর্তমানে মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা আসাদ এখন এলাকায় “অর্থকুবের” নামে পরিচিতি পেলেও তার উত্থানের পেছনে রয়েছে ভয়াবহ প্রতারণা ও মানবপাচারের অন্ধকার অধ্যায়।
অবৈধ সম্পদে বিলাসী জীবন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এলাকায় তিনি একাধিক দামী জমি ও বাড়ি কিনেছেন। শুধু তাই নয়, ঢাকায়ও রয়েছে তার একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও বিলাসবহুল গাড়ি। অঢেল সম্পদশালী হয়ে দাপটের সাথে চলাফেরা করলেও সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন অল্প সময়ে এত সম্পদের উৎস কোথায়
প্রতারণার শিকার শতাধিক পরিবার
বিশেষ করে মাদারীপুর জেলার শতাধিক পরিবার সরাসরি অভিযোগ করেছেন, তাদের সন্তানদের ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে আসাদ হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। অভিযোগকারীদের ভাষ্য—প্রতিজনের কাছ থেকে গড়ে প্রায় দুই কোটি টাকা করে সংগ্রহ করেছে আসাদুজ্জামান। কিন্তু প্রতিশ্রুত স্বপ্নের ইউরোপযাত্রা কখনোই বাস্তব হয়নি। প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো এখন পথে বসতে বসতে সরকারের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছে।
তার ছোট ভাই মোঃ নুরুল ইসলাম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ছবি পাওয়া যায় যা নিয়ে জন মনে বিভিন্ন কৌতুহল ও প্রশ্ন জাগে
আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ
মানবপাচারের এই ভয়াবহ চক্রে শুধু আসাদই নয়, আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত বলে জানা গেছে। বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন যুবক জানিয়েছেন, লিবিয়ায় অবস্থানকালে আসাদ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন আবদুল্লাহ ওরফে “মাফিয়া আবদুল্লাহ”-র সঙ্গে, যিনি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম প্রধান সদস্য। লিবিয়া ও ইতালির বিভিন্ন সূত্র থেকেও এ ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
গ্রেপ্তার অভিযান ও স্বীকারোক্তি
সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই আসাদুজ্জামান এলাকায় আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB)-২ একটি বিশেষ অভিযানে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে তাকে ও তার ছোট ভাই মোঃ নুরুল ইসলাম ও তার অন্যতম সহযোগী কে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে।
প্রতারিতদের দাবি
মানবপাচারের অভিযোগে প্রতারিত পরিবারগুলো সরকারের কাছে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আসাদুজ্জামানের সহযোগী চক্রের অন্য সদস্যদেরও চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উপসংহার
মানবপাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধের মাধ্যমে রাতারাতি বিপুল সম্পদশালী হয়ে ওঠা আসাদুজ্জামান আসাদের গল্প এখন দেশের আলোচ্য বিষয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তার গ্রেপ্তার মানবপাচার চক্র ভাঙার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, প্রতারিত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের কান্না ও ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পাওয়া এখন সময়ের দাবি।