জেসমিন আক্তার মনি, রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এক পর্যায়ে শিবিরের কাছে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ছাত্রদল দৌড় দিয়ে পালানো শুরু করে,এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন ভবনে ছুটে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি বৈঠক করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে দর্শনার্থী ও সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় সংগঠনই একে অপরকে দায়ী করেছে। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের শান্তিপূর্ণ প্রদর্শনীতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার জন্য প্রতিপক্ষ দায়ী।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রশাসন শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।