সৈয়দ হুজায়ফা অর্ণব
লক্ষ প্রাণের দামে কেনা এই যে লাল-সবুজ,
আজও কি আমরা সেই বীরত্বের মহিমা বুঝিব অবুঝ?
পঁচিশের সেই কালরাত্রি—
রক্তের নদীতে ভেসেছিল বাংলার অগণিত যাত্রী।
বজ্রকণ্ঠে গর্জে উঠেছিল শতশত মহাকবি,
তাদের সংগ্রামে ফুটেছিল স্বাধীনতার রবি।
শহীদের রক্তে ভিজে আছে মোর শ্যামল মাটির বুক,
মায়ের আঁচলে হাসি ফুটেছে আজ, ঘুচেছে সব দুখ।
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা আজও গায় সেই রণগান,
যে গানে বাঙালি হাসিমুখে দিয়েছিল নিজের প্রাণ।
মুক্ত আকাশে উড়ছে আজ শান্তির পায়রা,
শৃঙ্খল ভেঙেছি মোরা, ঘুচিয়েছি সব দায়রা।
অতঃপর এলো ২৪-এর সেই তপ্ত আষাঢ়-শ্রাবণ,
আবারও জেগে উঠল তারুণ্যের দুর্জয় প্লাবন।
ইতিহাসের পাতায় লেখা হলো এক নতুন অধ্যায়,
শোষণের নাগপাশ ছিঁড়ে ছাত্র-জনতার অভেদ লড়াই।
২৪-এর সেই সূচনায় রাজপথ হলো লালে লাল,
মুক্তিকামী মানুষের ঢলে কেঁপে উঠল মহাকাল।
আবু সাঈদের সেই প্রসারিত বুক আর মুগ্ধর আত্মদান,
নতুন করে শোনালো আমাদের সাম্যের জয়গান।
জুলাইয়ের সেই অগ্নিঝরা দিনে ভেঙেছে সব ভয়,
তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে এলো দ্বিতীয় বিজয়।
স্বাধীনতা মানে শুধু পতাকা ওড়ানো নয়,
স্বাধীনতা মানে মুক্তি, অন্যায়ের বিনাশ ও জয়।
জাগো ওরে নবীন, জাগো ওরে তরুণ দল,
দেশপ্রেমের অগ্নিশিখায় আনো বাহুতে বল।
আমরা গড়ব শোষণহীন এক সোনার বাংলাদেশ,
যেথা ঘুচবে সকল ঘৃণা আর হানাহানির রেশ।
হে স্বাধীনতা, তুমি আমার প্রাণের পরম নিশ্বাস,
তোমারি আলোয় খুঁজি আমি আগামীর ধ্রুব বিশ্বাস।
শপথ নিলাম—
শহীদী খুনে লিখব আবার স্বাধীনতার নাম,
রুধিব মোরা বিদেশি শত্রুর কালো হাত,
মোরা দেব না এক তিলও ভূমি, যতই আসুক আঘাত।
পরদেশি ওই রক্তচক্ষু রুখিব মোরা বীরের বেশে,
আঁচড় দিতে দেব না কভু আমার এই সোনার দেশে।
এ মাটি আমার গর্ব, এ আকাশ মোর প্রাণের নিশ্বাস,
রক্ত দিয়ে রাখিব অটুট স্বাতন্ত্র্যের মহান বিশ্বাস।
‘জয় বাংলা’ বলো,
কিংবা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বলো,
কিংবা ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’—
সবারই মূলে দেশের তরে ভালোবাসার স্বাদ।
স্লোগান যেটাই দাও না কেন, লক্ষ্য মোদের এক—
স্বাধীনতা রক্ষা করতে মোরা সব ভেদাভেদ দেব ত্যাগ।
দিনশেষে মোরা ভাই ভাই,
মোদের মাঝে আর কোনো ভেদাভেদ নাই,
দেশের স্বার্থে আজ এক হব,
এক কেতনতলে মোরা বিজয় নিশান উড়াব।
সব হৃদয়ে বাজুক জয়ের একতান—
‘বাংলাদেশ হোক অমর, অক্ষয়, অম্লান!’