কলমেঃ মোঃ আল আমিন
জীবনের এক অপরিহার্য সত্য
ভালো থাকতে আমরা প্রতিনিয়ত কত কিছুই না করি—টাকা সঞ্চয় করি, পোশাক কিনি, ভ্রমণে যাই, ভালো খাবার খাই, বিনোদনে মেতে উঠি, সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটাই, এমনকি প্রার্থনার দ্বারস্থ হই। এগুলো সবই ভালো, প্রয়োজনীয়। কিন্তু তবুও মনে হয় কোথাও একটা শূন্যতা রয়ে যায়। জীবনের অর্থহীনতা, মনখারাপ, অবসাদ যেন পিছু ছাড়ে না।
এ কারণেই বুঝতে হবে—ভালো থাকার জন্য শুধু বাহ্যিক উপকরণই যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আমরা প্রায়শই উপেক্ষা করি, সেটি হলো সম্পর্ক। সম্পর্ক হচ্ছে এমন একটি জীবন্ত জিনিস, যাকে প্রতিনিয়ত যত্নে রাখতে হয়। এটা কোনো ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট নয় যে একবার রেখে দিলেই চলবে। সম্পর্ককে ঠিক গাছের মতো নিয়মিত জল দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা এবং রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচিয়ে বড় করে তুলতে হয়।
পরিবারের সদস্য, প্রিয় বন্ধু, জীবনসঙ্গী—কারও সাথেই সম্পর্ক স্থায়ী হয় না যদি সেটির যত্ন না নেওয়া হয়। বাবা-মাও সন্তানদের ভালোবাসেন ঠিকই, কিন্তু যে সন্তান তাদের প্রতি মনোযোগী, যত্নবান—সেই সন্তানকে তারা একটু বেশিই আপন করে নেন। এই সত্য সব সম্পর্কেই প্রযোজ্য।
অনেকের কাছে সম্পর্কের যত্ন মানে জন্মদিনে উইশ করা বা দামি উপহার দেওয়া। এগুলো বাহ্যিক প্রকাশ মাত্র। আসল পরিচর্যা হলো—প্রিয়জনকে সময় দেওয়া, তাকে বুঝতে দেওয়া যে আপনি তার পাশে আছেন, প্রশংসা করা, তার কষ্টের সময়ে মনোযোগ দেওয়া। এর জন্য টাকা খরচ হয় না, কেবল দরকার মনোযোগ আর আন্তরিকতা।
কিন্তু আমরা কী করি? যে মানুষটি আমাদের গুরুত্ব দেয়, তাকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি। তার ওপর নিজের রাগ, কষ্ট উগরে দিই। ভাবি—সে তো সহ্য করবে। কিন্তু এভাবে আমরা একটা মূল্যবান সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলি—একটা সঞ্চয় ধ্বংস করে ফেলি।
জীবনের কঠিন সময়ে, মানসিক বিপর্যয়ে একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু তাকে বাঁচায় না—একটি সম্পর্ককে আরও গভীর করে। অনেক সময় একটি স্নেহভরা ছোঁয়া, উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর, নিঃশব্দ পাশে থাকা—মানুষকে অন্ধকার গহ্বর থেকে ফিরিয়ে আনে।
একবার ভাবুন—গত তিন মাসে আপনি আপনার আপনজনের জন্য কী করেছেন? যদি মনে পড়ে না—আজই শুরু করুন। হয়তো আপনি অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু প্রত্যাশার সময় কাউকে পাশে পাননি। হতে পারে। সব সম্পর্ক সমানভাবে প্রতিদান দেয় না। কিন্তু কেউ না কেউ ঠিকই দেবে—আপনার সত্যিকারের আপন মানুষটি।
আর হ্যাঁ, কিছু মানুষ থাকবে যারা আপনার সঙ্গে মেলেনা। হয়তো তারা আপনাকে ছোট মনে করে, অবহেলা করে বা ইর্ষা করে। এদের মন জেতার জন্য দয়া করে মরিয়া হবেন না। এই সম্পর্কগুলোই সবচেয়ে বিষাক্ত। এগুলো চিহ্নিত করে জীবন থেকে বাদ দিন। এতে আপনি মুক্ত হবেন এবং আত্মিক শান্তি পাবেন।
সম্পর্কও শরীরের মতো—সুস্থ রাখতে হলে আগেভাগেই যত্ন নিতে হয়। অসুস্থ হলে পরে শুধরে নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তাই আজ থেকেই সুস্থ সম্পর্ক গড়ার দিকে মন দিন। ভালোবাসুন, বুঝুন, গুরুত্ব দিন—আপন মানুষদের। এবং যে সম্পর্ক আপনাকে কষ্ট দেয়, সেখানে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না।
সম্পর্ককে যত্ন করুন, কারণ এটাই জীবনের সবচেয়ে দামি বিনিয়োগ।
ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা। ভালোবাসার উপনাম বন্ধু মো আল আমিন, বন্ধু তুমি অনেক দূর এগিয়ে যাও মন থেকে বলছি শুভকামনা।
ধন্যবাদ আপনাকে