• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
রাণীশংকৈলে ওসি আমানের নেতৃত্বে অভিযান, ১৩৫ পিস ইয়াবাসহ ইসমাইল গ্রেফতার কালিয়াকৈরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত সেবার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ধুলো-শব্দে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, তবুও বন্ধ হচ্ছে না মঙ্গলকাটার অবৈধ স-মিল কলকাতা দরবার শরীফে হুজুর কুতুবে বাংলার ৩৪তম বাৎসরিক উরস মুবারক উদযাপিত সিংগাইর সরকারি কলেজের সাবেক প্রথম ভিপি মহসিন আর নেই নিয়ামতপুরে ৮৫ বছরের বৃদ্ধার মাথা গোঁজার ঠাঁই ও চিকিৎসার আকুতি শিশুদের নিয়ে বর্ণমালা হ্যান্ডরাইটিং একাডেমিতে কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ৬ বছরেও প্রকাশ হয়নি মাউশির ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল, রংপুরে চাকরিপ্রত্যাশীদের মানবন্ধন ওসি আমানের তাণ্ডবে কাঁপছে রাণীশংকৈলের মাদক ব্যবসায়ীরা, ইয়াবাসহ বাসির গ্রেফতার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক নির্মাণ কাজে ধীরগতি! সড়কস্থ রাজপথে নাগরিক সমাজের সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name / ২৭২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫

 

খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার শিপইয়ার্ড সড়কের নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হওয়ার প্রতিবাদে, নির্মাণকাজ দ্রæত সম্পন্ন এবং নির্মাণ কাজে সীমাহীন ধীরগতি, জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ও অর্থ অপচয়কারীদের শাস্তির দাবীতে খুলনা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন (বুধবার ২৭ আগস্ট) বেলা ১১ টায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়কস্থ দাদা ম্যাচ কোম্পানীর সামনে রাজপথে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোঃ বাবুল হাওলাদার এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে শিপইয়ার্ড সড়কটি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অধীন থাকা অবস্থায়ও মারাত্মক নাজুক ছিল। মাঝেমধ্যে মেরামত বা সংস্কারের কাজ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ীভাবে সমাধানের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)’র প্রকল্প প্রস্তাবের ভিত্তিতে সড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ৯৮ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। সড়কটি খুলনা মহানগরীর অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এবং বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় শুধুমাত্র এ এলাকার মানুষের নয়, নগরবাসীও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ নির্মাণ কাজ এ অঞ্চলের বাসিন্দাসহ নগরবাসীর জন্য গলার কাটা হয়ে দাঁড়ায়। আমাদেরকে চরম দূর্ভোগের ভাগ্য বরণ করতে হয়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচীও পালন করে আসছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে কেডিএ কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা হয়েছে বিভিন্ন মহলের। আপনারাও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষে গুরুত্বসহকারে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করেছেন বার বার। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে প্রকল্পটি একনেকে পাশ হওয়ার পর প্রায় ৯টি বছর নানান চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারী কেডিএ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করে। ২০২৪ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়সীমার ১ বছরেরও অধিক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে ইতিপূর্বে। কেডিএ’র পক্ষ থেকে প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে দাবী করলেও সরেজমিনের চিত্র ভিন্ন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি অপরিকল্পিতভাবে যথেচ্ছা নির্মাণ কাজ করার কারণে সড়কটির অবস্থা যা ইচ্ছে তাই। সড়কের যেখানে সেখানে ইটের খোয়া, কোথাও কোথাও পুকুর আকৃতির গর্ত, বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানি ভর্তি হয়ে যাওয়া, সড়কের দুইপাশ খুড়ে ১ বছরেরও অধিক কাল ফেলে রাখা ইত্যাদি কারনে এটিকে এখন আর সড়ক বলা যায় কিনা? সেটি একটি বড় প্রশ্ন! বাকী রয়েছে সড়কের মুল কাজগুলো যেমন- রোড ডিভাইডার, দুইপাশের ড্রেন ও ফুটপাথ, লবণচরা সেতু, মতিয়াখালী -স্লুইস গেট ও কালভার্ট। ফলশ্রুতিতে শুধুমাত্র জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে তাই ই নয়, এই সময়কালে এই অঞ্চলের শিল্প-বানিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। মালিক-শ্রমিক-কর্মচারী নির্বিশেষে অনেকে সর্বশান্ত হয়েছেন। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন। এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে একধরণের স্থবিরতা।
এসময়ে তিনি বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এ কাজে ইচ্ছাকৃত মারাত্মক ধীরগতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে আড়াই গুণেরও বেশী। অথচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বালু ও খোয়া ফেলার মত সহজ ও লাভজনক কাজটুকু করে এরকম একটি অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ৭০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেল। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির কাজের এমন ধীরগতি, কাজ সম্পন্ন না করা, অপরিকল্পিত যথেচ্ছা কাজ করে এতবড় জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করা, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি প্রভৃতির পরও কেন তাদেরকে এই ৭০ কোটি টাকা প্রদান করা হলো, এ প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহিতার আওতায় কেন আনা হলোনা বা গেলনা, জনভোগান্তি লাঘব ও নির্মাণ কাজের অনিশ্চয়তা, বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতি ও প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের দায়ভার কার বা কাদের এ প্রশ্ন থেকেই যায়। অ্যাডভোকেট মোঃ বাবুল হাওলাদার আরও বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, চাষাবাদের জমিতে পরিণত হওয়া এ সড়কটির নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন এবং নির্মাণ কাজে সীমাহীন ধীরগতি, জনদূর্ভোগ সৃষ্টিকারী ও অর্থ অপচয়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্মাণ কাজ অতিদ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীসহ নগরবাসীকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- খুলনা নাগরিক সমাজের আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ অ্যাডভোকেট আ ফ ম মহসীন, নাগরিক নেতা মিজানুর রহমান বাবু, সরদার আবু তাহের, আব্দুস সালাম শিমুল, মাওলানা নুরুল ইসলাম (নূরানী), মোঃ হাছিবুর রহমান হাছিব, মোঃ কামাল হোসেন, মোসলেহ উদ্দীন তুহিন, মোঃ জামাল উদ্দিন মোড়ল, খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস, কবি মোঃ রহমত আলী, দুলাল সরকার এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে সাংবাদিকদের মাঝে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোঃ বাবুল হাওলাদার বলেন খুলনার শিপইয়ার্ড সড়কের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন এবং জনদূর্ভোগ সৃষ্টিকারী ও অর্থ অপচয়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে
এই ঘোষণার মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন শেষ হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd