• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
জবি ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ কবিতা: দোষ দিবে কারে জননেতা খোকন চৌধুরীকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না- এসএম সাইমুন দুই বছর পর চালু হচ্ছে খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি যশোরে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার তাগিদ পাঁচবিবি থানা পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল উদ্ধার বর্ণশিল্পী ধনঞ্জয় রায়ের শুভ জন্মদিনে খুলনা আর্ট একাডেমির আন্তরিক শুভেচ্ছা খুলনা আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী – প্রাচুর্য-পার্থিব দুই ভাইয়ের সাফল্যে আনন্দিত কবিতাঃ স্বপ্নই বেঁচে থাকার প্রেরণা ধামইরহাটে সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক গম্ভীরা

ডিমলায় প্রধান শিক্ষকসহ ৫ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করানোর ভিডিও ভাইরাল, তদন্ত কমিটি গঠন

Reporter Name / ১৯৫ Time View
Update : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

 

মো. রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে হাত-পা ও শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গত ২৫ জুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামিয়ার রহমান এবং চারজন সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। অনেক সময় দেরিতে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক প্রায়ই ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকজন সহকারী শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে হাত, পা ও শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেন। এসব ঘটনার ভিডিও স্থানীয়দের কাছে সংরক্ষিত ছিল। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষকদের এসব অনিয়মের বিষয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়। সেখানে শিক্ষকরা যদি নিয়মিত পাঠদান না করেন বা শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে নেন, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামিয়ার রহমান এবং অভিযোগে উল্লেখিত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জোরদারের পাশাপাশি অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd