এস এম রকিবুল হাসান
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের সিদাইন গ্রামে এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের পরগ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিয়ে এবং পরে ঔষুধ খাইয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ
উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নিয়ামতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর
বাবা মো. মিরাজ সোনার।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার মেয়ে লতা খাতুন জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী
হওয়ায় নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের
বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি।প্রায় তিন মাস আগে অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন কৌশলে ও জোরপূর্বক তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক
স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।পরবর্তীতে লতা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি
পরিবারের নজরে আসে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানাজানি
হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।সালিশে সাখাওয়াত হোসেন গর্ভের সন্তান তার বলে স্বীকার করেন। পরে গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে আপস-মীমাংসার ভিত্তিতে লতা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে
সম্পন্ন হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বিয়ের পর স্বামীর
বাড়িতে নেওয়ার পর থেকেই লতা খাতুনকে বিভিন্নভাবেশারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩১ জুলাই দিবাগত রাতে অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে লতা খাতুনকে
ওষুধ খাওয়ান।পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি তীব্র পেটব্যথাওশারীরিক যন্ত্রণায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর অভিযুক্তরা তাকে
বাবার বাড়িতে রেখে চলে যান।কিছুক্ষণ পর তার গর্ভপাত হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত
নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং
শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।তাদের ভাষ্য, গর্ভধারণের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে গ্রাম্য সালিশে সাখাওয়াত হোসেন গর্ভের সন্তান
নিজের বলে স্বীকার করেন এবং এরপরই উভয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাখাওয়াত হোসেনের
বাড়িতে গেলে তিনি ও তার মা ক্যামেরার সামনে
কথা বলতে রাজি হননি।তবে সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আমার স্ত্রী লতা খাতুনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।এরপর সে বাবার বাড়িতে চলে যায়।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি।বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হবে।