মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের বহুল আলোচিত ও নির্মম সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও দোষীদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের চূড়ান্ত রায় না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের সাংবাদিক নেতারা। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যা বন্ধে অবিলম্বে ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় গাজীপুর চৌরাস্তায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক প্রতিবাদ সমাবেশ, শোকসভা, মানববন্ধন ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ পেশাজীবীরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
বাসন মেট্রো থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাজ্জাকুল ইসলাম রাজ্জাকের সভাপতিত্বে এবং জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহীম খলিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আবু জাফর বলেন,স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ অনৈক্য ও বিভাজনের সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে একের পর এক সাংবাদিক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার পাচ্ছে না নিহতের পরিবারগুলো।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কিংবা শত্রুতাবশত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অধিকাংশ ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া আজও আলোর মুখ দেখেনি। রাষ্ট্রযন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যেভাবে উদাসীনতা দেখাচ্ছে, তা কার্যত এক ধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ।
আবু জাফর আরও সতর্ক করে বলেন,আইন ও বিচারহীনতার এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সত্য প্রকাশের সাহসী পেশা সাংবাদিকতা একদিন একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়বে। পেশার মান, মর্যাদা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, মূল সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে অপসাংবাদিকতা এবং ভিন্ন পেশার মানুষের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের সঠিক তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই তালিকায় যেন কোনো অ-সাংবাদিক বা স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে নিজেদেরও সজাগ থাকতে হবে।” পরিশেষে তিনি আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতকদের দ্রুগ গতিতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উক্ত প্রতিবাদ ও শোক সমাবেশে বিশেষ ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. তাওহীদ হাসান, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মোস্তাক আহমেদ খান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা সিকান্দার আলী, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আখতারুজ্জামান, ভাওয়াল প্রেসক্লাব গাজীপুরের সভাপতি মোঃ মাজহারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম হোসেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল বারী, গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার, জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ গাজী মামুন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মোঃ খাইরুল আলম রফিক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা গাজীপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাসান মিয়া, জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির উপদেষ্টা মোঃ ফিরোজ মিয়া, জাতীয় সাংবাদিক অধিকার সোসাইটির আহ্বায়ক মোঃ মানিক, মহানগর প্রেসক্লাব গাজীপুরের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম শহিদ, বাসন মেট্রো থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনজুর আলম সরকার, সাংবাদিক ও অভিনেতা মোঃ রানা, বাসন মেট্রো থানা প্রেসক্লাবের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হেলেনা আক্তার এবং গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আবু সালেক ভূঁইয়া।
সমাবেশে গাজীপুর জেলা ও মহানগরসহ আশেপাশের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি শেষে নিহত আসাদুজ্জামান তুহিনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।