মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ, নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবনচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভাবনচুর বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধনী নামফলক অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্থানীয়রা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত ৩১ জুলাই বিকেল ৫টায় নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবনচুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভাবনচুর বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রকল্পের শুভসূচনা করা হয় এবং সেখানে একটি উদ্বোধনী নামফলক স্থাপন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নামফলকের স্তম্ভ নির্মাণকালে এলাকার সাবেক জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা ও বর্তমান বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত আব্দুল জলিল সেখানে উপস্থিত হয়ে নামফলক স্থাপন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, “এটা আন্দাজে লাগিয়ে লাভ কী? এটা তো এখানে থাকবে না। এগুলো জামায়াতের ভোট বাড়ানোর ধান্দা।”
স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার পরদিন রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা এমপির উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী নামফলকটি অপসারণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী নামফলক অপসারণ শুধু ভাঙচুর নয়, এটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করার একটি নিন্দনীয় প্রচেষ্টা। তবে একটি নামফলক সরিয়ে দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। জলঢাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে চলমান কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের নাশকতামূলক বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নামফলক অপসারণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগে যাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর বক্তব্যও এখনো জানা যায়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।