হারাধন সূত্রধর, পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
জনস্বার্থ সংরক্ষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন রোধ, বাজারে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হয়েছে।গত ১২ আগস্ট (বুধবার) দিনব্যাপী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোহনগঞ্জ, নেত্রকোণা সদর ও কলমাকান্দা উপজেলায় পৃথক এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে অবৈধ বালু উত্তোলনের অপরাধে দুইজনকে এক মাস করে কারাদণ্ড, অপর একজনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং বাজারে অনিয়মের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ বালু।
মোহনগঞ্জে ২ জনের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা:
মোহনগঞ্জের টেংগাপাড়া স্লুইস গেইট এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এম. এ. কাদেরের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এসময় ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মোঃ কিবরিয়া (৪০) ও মোঃ সহিদ মিয়া (৩০)-কে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। একই অপরাধে মোহনগঞ্জের মোঃ মানিক মিয়া (৪৯)-কে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
সদরে ২০ হাজার টাকা জরিমানা:
নেত্রকোণা সদর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড ও চল্লিশা এলাকায় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬’ লঙ্ঘনের অপরাধে একটি মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া এলপিজি সিলিন্ডারের বাজার মনিটরিংকালে মজুত গোডাউনে অনিয়ম পাওয়ায় ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী অন্য একটি মামলায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পৃথক দুটি মামলায় মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
কলমাকান্দায় আড়াই লাখ টাকার বালু জব্দ:
কলমাকান্দার কালিহালা এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামছুজ্জামান আসিফের নেতৃত্বে অপর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। সেখান থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত আনুমানিক ৫ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জব্দকৃত বালু স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতকরণে জনকল্যাণমূলক এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।