দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দির গৌরীপুরে সাংবাদিক মুন্নি শেখকে প্রকাশ্যে মারধর এবং পরে টাকা নিয়ে আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মুন্নি শেখ অভিযোগ করেন, দাউদকান্দি উপজেলার তার পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নেয় ভূমিদস্যু একরাম, আলম, রুহুল আমিন ও হুমায়ুন গ্যাং।পলি বেগম এবং তার জামাই রব দুই শতক জায়গা দখল করে টিউবল বাথরুম ও গাছপালা লাগিয়ে চতুর্দিক দিয়ে বেড়া দিয়ে রেখেছে। তাদের ক্রয়-কৃত জায়গা হল ৩ শতক কিন্তু তারা দখল করে রেখেছে ৫ শতক(জমির দাগ নাম্বার পেন্নই মৌজার ৭৮০৬)। ইকরাম ও আলম গ্যাং দখল করে রেখেছে সাড়ে তিন শতক জায়গা(জমির দাগ নাম্বার পেন্নই মৌজার ৭৮০৭,৭৮০৮)। ভুক্তভোগী মুন্নি শেখ এর জায়গার পরিমাণ হল ১৬ শতক কিন্তু ইকরাম ও আলম গ্যাং সাড়ে ১০ শতক জায়গা মুন্নি শেখ দিয়ে চতুর্দিক দিয়ে ওয়াল টেনে দখল রেখেছে ৫-৬ বছর যাবৎ। এর আগেও ভুক্তভোগী মুন্নী শেখ ইকরাম ও আলম গ্যাং দ্বারা মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়। ইকরাম ও আলম গ্যাং যখন জমি পরিমাপ করেন তারা কখনো ভুক্তভোগী মুন্নি শেখকে জানায় না। মুন্নি শেখ এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জায়গা পরিমাপের কথা শুনে জায়গায় গেলে মারধর করে এবং হুমকি দেয় আর জায়গার কাছে আসলে মেরে বালুর নিচে পুতে রাখবে।
নিরুপায় হয়ে মুন্নি শেখ কুমিল্লা আদালতে ১৪৫ ধারা মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে দাউদকান্দি থানা তদন্তের দায়িত্ব দেয় গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়িকে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় তদন্তের জন্য সাংবাদিক মুন্নি শেখকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে বলেন এএসআই সিদ্দিক। কিন্তু তিনি অনেক দেরিতে পৌঁছালে জায়গার কাছে যাওয়া মাত্র সময় আনুমানিক ৪ টায় ইকরাম ও আলম গ্যাং এর নির্দেশে পলি বেগম তার জামাই রব সহ আরো ৫-৬ জন অতর্কিত হামলা করে ভুক্তভোগী মুন্নি শেখের উপরে। তারা ভুক্তভোগী মুন্নি শেখকে কিল ঘুষি ও লাথি মেরে বালুর মধ্যে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে তারা লাঠি দিয়ে আঘাত করে। সাঁপাল দিয়ে ভুক্তভোগী মুন্নি শেখের মাথায় বারি দেওয়ার চেষ্টা করলে মুন্নি শেখ হাত দিয়ে তা আটকায় সাথে সাথে ভুক্তভোগী মুন্নি শেখের হাত ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশকে আসতে দেখে হামলাকারীরা সবাই পালিয়ে যায়। পাশের বাড়ি থেকে উঁকি মারার সময় হামলাকারীর রব কে পুলিশ দেখতে পায় এবং তাকে এএসআই সিদ্দিক হামলার মূল আসামি রবকে ‘জামাই আদরে’ গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী মুন্নি শেখ কে দাউদকান্দি (গৌরীপুর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে রেফার করেন।এক্সরে রিপোর্টে তার হাত ভাঙ্গার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী মুন্নি শেখ প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর হাতের ব্যথা সহ্য করে গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে মামলা করার জন্য যায়।
এএসআই সিদ্দিক ও এলাকার কিছু গণ্যমান্য লোক ভুক্তভোগী মুন্নি শেখকে অর্থের বিনিময়ে মিলমিশ ও জায়গা দখল করিয়ে দেবে বলে। কিন্তু ভুক্তভোগী মুন্নি শেখ বলে, ইকরাম ও আলম গ্যাং বিগত ৫-৬ বছর যাবৎ আমার জায়গা দখল করে আছে। তারা আমাকে অনেকবার গালাগাল,মারতর ও নির্যাতন করেছে, আমাকে হুমকি দিয়েছে জায়গার কাছে গেলে মেরে বালুর নিচে পুঁতে রাখবে। ইকরাম ও আলম গ্যাং বলেছে ৫০ লাখ টাকা দিলে আমার জায়গার দখল ছেড়ে দিবে। ভুক্তভোগী মুন্নি শেখ আরো বলে, আমি আইনের উপর বিশ্বাসী আপনারা আমার মামলা করুন। আমি অর্থের বিনিময়ে কোন মিলমিশে যাবো না। ইকরাম ও আলম গ্যাং অনেক শক্তিশালী, তারা গৌরীপুরের ক্যাডার মস্তান ও প্রভাবশালী লোকদের হাত করে রেখেছে।
পরে অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১২টার পর পর্যন্ত কোনো মামলা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে এএসআই সিদ্দিক সাংবাদিককে জানান, “তাকে অন্য মামলায় আনা হয়েছিল, ভুক্তভোগী মুন্নি শেখের মামলায় নয়।”
কিন্তু এএসআই সিদ্দিক আসামি রব কে কোন মামলায় আটক করা হয়েছিলো তার কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।
আরও অভিযোগ, রাত ১২টা পর্যন্ত সাংবাদিক মুন্নি শেখকে ফাঁড়িতে বসিয়ে রেখে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে এএসআই সিদ্দিক তার ইমারজেন্সি কাজ আছে বলে ফাঁড়ি থেকে চলে যায়।
পরে ভুক্তভোগী মুন্নি শেখকে গুরুতর অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর এলাকাবাসী ও সাংবাদিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এএসআই সিদ্দিকের ঘুষ বাণিজ্য ও প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে গৌরীপুরে ন্যায়বিচার পাওয়া যাচ্ছে না।” তারা দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী মুন্নি শেখ আইন ও আদালতের কাছে দাবি জানায়ঃ
আমার বা আমার পরিবারের কোন ক্ষয়ক্ষতি হলে এর দায়ভার ইকরাম ও আলম গ্যাং এর। গৌরীপুরে তাদের মস্তান বাহিনী ও কিশোর গ্যাং রয়েছে। এছাড়াও গৌরীপুরের অনেক প্রভাবশালী লোক, নেতা ও কিছু পুলিশ সদস্য তাদের হাতের মুঠোয়। ইকরাম ও আলমের এক ইশারায় তাদের গ্যাং ও মস্তান বাহিনীরা যে কাউকে মারধর ও হত্যা পর্যন্ত করতে পারে। আমি আইনের উপর বিশ্বাসী, আমি বিজ্ঞ আদালতের কাছে সঠিক বিচার চাই।