• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বিশ্বনাথে নিষিদ্ধ আ’লীগ-ছাত্রলীগের ৭০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতা বকুলের মামলা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা সিংড়ায় মাছের পুকুরে বিষ, সর্বস্বান্ত চাষি কবিতাঃ তুমি তো চলেই যাবে তালামীযের রানীগঞ্জ ইউনিয়ন শাখা’র কাউন্সিল ও অভিষেক সম্পন্ন ৯ মাসের অনাথ শিশু থেকে বিএ পাস সমাজসেবক, মেম্বার পদে লড়ছেন হারাধন সার সংকটের সমাধান, কৃষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা-গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন দৈনিক ভয়েজ অব টাইগারের সাংবাদিকরা খুলনা আর্ট একাডেমি পরিদর্শন করেন পৌর বিএনপির সভাপতি আমিরুল বাহার কে সংবর্ধনা দিয়েছে এমপি মনজুরুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা ইবনে সিনা ন্যাচারাল মেডিসিনের উদ্যোগে খুলনায় এনজিকিউ এবং কায়রোক্যাপ প্রোডাক্টের সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রোগীর চাপে নাজেহাল রাণীশংকৈল হাসপাতাল, মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে

Reporter Name / ১০৬ Time View
Update : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

 

মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ৯৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ফলে ওয়ার্ডগুলোতে কোনো শয্যা খালি নেই। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করলেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি শয্যা রোগীতে পূর্ণ। ওয়ার্ডের ভেতরে জায়গা না থাকায় বারান্দার মেঝেতেও সারিবদ্ধভাবে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঋতু পরিবর্তন, তীব্র গরম, ডায়রিয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও মারামারিতে আহত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে পুরুষ ওয়ার্ডে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪ জন এবং অন্যান্য রোগে ২৬ জন, মহিলা ওয়ার্ডে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৬ জন, নিউমোনিয়ায় ৩ জন, গাইনি বিভাগে ১ জন এবং অন্যান্য রোগে ৪৪ জনসহ মোট ৯৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মেঝেতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন ডিগেন চন্দ্র রায় বলেন, “শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেঝেতে রোগীকে রাখতে হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকভাবে সেবা দিচ্ছেন, কিন্তু রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে তারা সব সময় দ্রুত সাড়া দিতে পারছেন না।”

ডিউটিরত এক নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের জনবল ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে। ওষুধ দেওয়া, স্যালাইন লাগানো এবং সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করতে গিয়ে আমাদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফিরোজ আলম বলেন, “রোগী যতই বেশি হোক, সরকারি হাসপাতাল থেকে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। ৫০ শয্যার বিপরীতে ৯৪ জন রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে শয্যা, ওষুধ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সুবিধার ওপরও চাপ বেড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও শয্যা ও জনবল সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। তারা দ্রুত হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd