• শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
পূর্বধলায় কেন্দ্রীয় মন্দিরের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা: পরিচিতি সভায় দায়িত্ব হস্তান্তর লোহাগাড়া স্টার সুপার মার্কেটে বিবি আনা শপের শুভ উদ্বোধন নরসিংদীতে একদিনে নানা ঘটনা: বাল্যবিবাহ বন্ধ, প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, হত্যা, মানববন্ধন ও সড়ক দুর্ঘটনা জগন্নাথপুরে ইউপি সদস্যকে জড়িয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর মানববন্ধন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফাকে গ্যাজেটভুক্ত ও মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মানের দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন দোয়ারাবাজারে এক ভূমিহীনের দখলে থাকা সরকারী জায়গা প্রভাবশালীচক্র স্টাম্পের মাধ্যমে জোরপূর্বক দখল সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ অবদান রাখায় নিসচা বিশেষ সম্মাননা পেলেন লায়ন গনি মিয়া বাবুল তুহিন হত্যার এক বছরেও মেলেনি বিচার, অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের তীব্র দাবি পূর্বধলায় মসজিদে মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংবিরোধী সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত মাদকমুক্ত ও আধুনিক পূর্বধলা সদর ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার সাখাওয়াত হোসেন খাঁন পলাশের

অভাব-দুঃখকে জয় করে বেঁচে থাকার লড়াই সীমার

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

জন্মের পর থেকেই দুঃখ যেন পিছু ছাড়েনি। বাবার স্নেহ পাননি, স্বামীর ঘরও টেকেনি। সুখ কী জিনিস এখন পর্যন্ত জানতেও পারেননি, জানার চেষ্টাও করেননি। তবুও এত কষ্টের মাঝেও ভেঙে পড়েননি। বরং কষ্ট ও অভাবকে সঙ্গী করে, পরিশ্রমকে পুঁজি করে মায়ের সংসারের হাল একাই টেনে যাচ্ছেন সুরাইয়া সুলতানা সীমা।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন দুলুর ছোট মেয়ে সীমা। ৩ বোন, সবার ছোট ১ ভাই।

সীমা বলেন, “বাবা মাকে এবং আমাদের ৪ ভাইবোনকে ছোট রেখেই অন্যত্র বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হয়। ২০ বছরের অধিক সময় কেটে গেছে বাবার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। মা ও আমাদের রেখে অন্যত্র বিয়ে করায় দাদা রাগ করে বাবার অংশের সম্পত্তি মায়ের নামে লিখে দেন। এজন্য বংশের অনেকের চোখ রাঙানি সহ্য করতে হয়। সেইটুকুই আমাদের জীবন চলার শেষ সম্বল।”

সীমা আরও বলেন, “সময় গড়িয়ে যায় এক সময় বড় দুই বোন ও ছোট ভাইয়ের বিয়ে হয়। সুখের সংসার পাতলেও ছোট ভাইয়ের সংসার বেশিদিন টিকেনি। এলাকার ক্যাসিনো ডিলারের খপ্পরে পড়ে ছোট ভাই সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়। দেনার দায়ে একসময় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে যায়। একসময় ছোট ভাই শুভ পাঁচবিবি স্টেশন এলাকায় পুরাতন কাপড় বিক্রয় করত, এখন ভাই ঢাকায় থাকে।”

নিজের জীবনেও সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি সীমার। “ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু বৃদ্ধা মাকে একা রেখে শ্বশুরবাড়িতে যেতে না পারায় ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামী একসময় অন্যত্র বিয়ে করে। মায়ের মতো আমার সংসার জীবনও একই পথে হাঁটতে লাগলো।”

তবে দুঃখকে তিনি দুর্বলতা ভাবেননি কখনোই, বরং শক্তি বানিয়েছেন। সংসারের অভাব মেটাতে স্কুল জীবন থেকেই কাজে নেমেছেন।

প্রথমে দর্জির কাজ শিখে বড়বোনের সেলাই মেশিন চেয়ে নিয়ে বাড়িতেই এলাকার মানুষের কাপড় সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন সীমা। দর্জির কাজের পাশাপাশি বাড়িতে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করেন। ছোট একটা পুকুরে মাছ চাষও করেন। এছাড়া অবসর সময়ে কঠোর পরিশ্রমী সীমা এলাকার ছোট-বড়দের কোরআন পড়া শিক্ষা দেন।

এসব আয় দিয়েই মা-মেয়ের ডালভাত খেয়ে পেট চলে। জমানো কিছু টাকা দিয়ে ছোট বাড়িও করেছেন।

*”হাত পাতব না, কাজ করে খাব”*
সীমার সোজা কথা, “শরীরে যতদিন শক্তি থাকবে অন্যের কাছে হাত পাতব না। নিজে কাজ করে ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে চাই।”

পাঁচবিবির এই লড়াকু নারীর গল্প শুধু বেঁচে থাকার নয়, মাথা উঁচু করে বাঁচারও। সমাজ, সংসার বারবার আঘাত করলেও সীমা থেমে থাকেননি। দুঃখকে বুকে নিয়ে প্রতিদিন নতুন করে জীবন যুদ্ধে নামেন তিনি।

মায়ের মতো তোমার জীবনটা অতিবাহিত করছ, কষ্ট লাগে কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে সীমা বলেন, “অভাব আর কষ্টেই যাদের জীবন গড়া তাদের আবার কষ্ট কিসের।”

তার একটাই চাওয়া, “একটা সেলাই মেশিন সরকার বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে পেতাম, বড়বোনের থেকে নেওয়া মেশিনটি তাকে ফেরত দিতাম।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd