স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া ঈদগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইতি আক্তারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত করা, অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাপ দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুকাই আক্তার উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ায় বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেননি। পরে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের কারণেই রুকাই উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে অন্য একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্যও বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীর নানি আনজুনা খাতুন বলেন, “আমার নাতনিকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ায় সে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বারবার কথা বলেও কোনো সমাধান পাইনি।”
এদিকে বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের রং করার জন্য সরকারি বরাদ্দ এলেও কেবল সামনের অংশে রং করা হয়েছে। ভবনের পেছনের অংশ এবং বিদ্যালয়ের নামফলকে রং করা হয়নি। এতে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “রং করা হয়েছে, কিন্তু বিদ্যালয়ের নামফলকই রং করা হয়নি। তাহলে কাজ সম্পূর্ণ হলো কীভাবে? সরকারি অর্থের কাজ এভাবে হওয়া উচিত নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ইতি আক্তার বলেন, “সরকারি বরাদ্দ যে পরিমাণ এসেছে, তা দিয়ে সামনের অংশের কাজ করা সম্ভব হয়েছে।” তবে ভবনের পেছনের অংশ ও নামফলকে রং না করার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এছাড়া শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বাধ্য করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “সরকারি বরাদ্দের কাজ নিয়ম অনুযায়ী না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী কেন উপবৃত্তি পায়নি, সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি অর্থ ব্যয়ের হিসাব যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।