নদীর কাছে যেয়ে বললাম
তোমার কোন কষ্ট আছে কি?
কিছুটা উদাস আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে উত্তর দিল
কষ্ট থাকে যখন আমার সব পানি শুকিয়ে যায়!
আবার কিছুক্ষণ পর-
উচ্ছ্বাস ভরে সগৌরবে উত্তর দেয়
কষ্ট সব সময় আমার থাকে না!
যখন ভরা জোয়ারে আমার মধ্যে
পানি থাকে কানায় কানায়!
যৌবনবতী মনে হয় তখন আমার
তখন আমার সমস্ত কষ্ট হারিয়ে যায়।।
অমাবস্যার ঘোর নিঃশব্দ অন্ধকারে
ঢাকা আকাশকে জিজ্ঞাসা করলাম
তোমার কোন কষ্ট আছে ?
কিছুটা চিন্তিত সে—
উত্তর দিতে বিলম্ব তার–
আমি অপেক্ষায় থাকলাম!
কিছুটা সময় পর ষোড়শী তরুণীর মত
জগত জুড়ানো মোহনীয় হাসিতে উত্তর তার!
পূর্ণিমার জলসানো আলোতে আলোয়
যখন ভরপুর থাকে সমস্ত আকাশ
সব কষ্ট দূর হয়ে যায় তার!
তার উচ্ছ্বসিত হাসিতে প্রাণ জুড়িয়ে যায়!
ষোড়শী কন্যা মনে হয় তখন তার!
প্রচন্ড শীতে পৃথিবীর মানুষ
আর গাছপালা যখন কুঁকড়ানো থাকে
বিমর্ষ তায় আমি নিদারুণ শীতকে
জিজ্ঞাসা করি কেমন আছো ভাই?
থর থড়িয়ে একশত বছরের বুড়ির মতো
ঘোলাটে চোখে সে তাকিয়ে থাকে
আমার দিকে—প্রচন্ড কষ্টে!
উত্তর তারও সে অপেক্ষা করে থাকে উচ্ছ্বসিত হয়ে
পৃথিবীর পল্লবীত -প্রস্ফুটিত
অবশ্যই কাঙ্খিত বসন্তের আশায়!
অতএব নিরাশ- হয়ো না বন্ধুদ্দ্বয়
আসবে আবার সুদিন
থাকো সেই সুদিনের আশায়!