আমজাদ হোসেন, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা বন বিভাগের কার্যালয় ও কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। মূল কার্যালয়সহ কয়েকটি ভবন এখন প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী। অন্যদিকে নিজস্ব নার্সারিতে পর্যাপ্ত চারা উৎপাদন না হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি বনায়ন প্রকল্পের জন্য বাইরের বেসরকারি উৎস থেকে চারা সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় তিন একর জায়গার ওপর ১৯৮০ সালে ক্ষেতলাল বন বিভাগের কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ে উল্লেখ করার মতো কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় ভবনগুলোর বিভিন্ন অংশ খসে পড়ছে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের প্রবেশপথ ও আঙিনা আগাছায় ছেয়ে গেছে। নিজস্ব নার্সারি থাকলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য চারা উৎপাদন কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
উপজেলার বনায়ন ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চারা চাহিদার একটি বড় অংশ নিজস্ব নার্সারি থেকে জোগানের কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থানীয় ঠিকাদারেরা বাইরে থেকে চারা কিনে কাজ চালাচ্ছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে চারার যে বর্ধিত চাহিদা তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে ক্ষেতলাল বন বিভাগের উৎপাদন সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় উন্নয়নকাজের সাথে যুক্ত ঠিকাদার বেলাল হোসেন জানান, নতুন সড়ক নির্মাণ বা খাল খননের পর আইন অনুযায়ী গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু স্থানীয় বন বিভাগে পর্যাপ্ত চারা না পাওয়ায় তাদের বাধ্য হয়ে বাইরের বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করতে হয়। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত চারা পাওয়া গেলে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই সাশ্রয় হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একই ধরণের কথা জানান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ক্ষেতলাল কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলসীগঙ্গা নদীর বেড়িবাঁধে রোপণ করা প্রায় দুই হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারার পুরোটাই বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে।
অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষেতলাল উপজেলা বন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান জানান, বন বিভাগ নিয়মিত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সড়ক এলাকায় চারা বিতরণ করে থাকে। চলতি বছরে ইতোমধ্যে ৫ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে বেডে আরও ৩ হাজার চারা রয়েছে। এছাড়া আরও ৩০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উপযোগী মাটি সংগ্রহের জটিলতার কারণে এখনো সেই কাজ শুরু করা যায়নি।
কার্যালয় ও আবাসন সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন,জরাজীর্ণতার কারণে আবাসিক ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি ক্ষেতলালের পাশাপাশি কালাই উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।
কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মূল ভবনের অনুপযোগী পরিবেশের কারণে মালীদের ঝুপড়ি ব্যারাকেই দাপ্তরিক কাজ সারতে হচ্ছে কর্মীদের। বন বিভাগের মালী আব্দুর রাজ্জাক ও অফিস সহায়ক বেলাল হোসেন জানান, উপজেলার অন্যান্য সরকারি দপ্তরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও বন বিভাগের এই কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী জানান, বন বিভাগের ভবন ও জনবল সংকটের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।