মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম টিটু, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
দৈনন্দিন জীবনে পানীয় ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সংরক্ষণে প্লাস্টিকের বোতলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ব্যবহারের পর এসব প্লাস্টিক বোতল যথাযথভাবে অপসারণ ও পুনর্ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় পরিবেশে তৈরি হচ্ছে দূষণের ঝুঁকি। দীর্ঘদিন পরিবেশে পড়ে থাকা প্লাস্টিক ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক সৃষ্টি করতে পারে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে।
ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতলসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এসব বর্জ্য খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে গিয়ে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করার আশঙ্কা তৈরি করে। প্লাস্টিক বর্জ্য দীর্ঘ সময় ধরে মাটি ও পানিতে থেকে ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হতে পারে এবং পরিবেশের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনি রায় বলেন,
“প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে পরিবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশ রক্ষায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ দূষণ ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”
সচেতন মহলের মতে, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, ব্যবহৃত বোতল ও পলিথিন নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, বাজার ও জনসমাগমস্থলে প্লাস্টিক দূষণবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় আজকের সচেতনতাই হতে পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পৃথিবী।