মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ, জেলা প্রতিনিধি।
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার ৬০ জন নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর ভাই ইসহাক সরকার কিছুদিন আগে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পর ইয়াকুব সরকারের জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত দাওয়াতি সমাবেশে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে ইয়াকুব সরকারসহ তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা জামায়াতে যোগ দেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একই অনুষ্ঠানে বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাবেক বিচারপতি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ৬৫০ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের ফুল ও ইসলামিক বই দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
জামায়াতে যোগদানের পর নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইয়াকুব সরকার বলেন, “৩৬ বছর বিএনপি করে মানুষ হতে পারিনি। কারাগারে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পাশে থেকে কোরআন শিখেছি এবং সঠিক পথের দিশা পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে থাকাকালে নেতারা তাঁর হাতে মদ ও তাস তুলে দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন; অন্যদিকে জামায়াত নেতারা তাঁর হাতে কোরআন তুলে দিয়েছেন। কোরআনের আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জামায়াতে যোগদানের কথা জানান।
ইয়াকুব সরকারের বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি কারাগারে জামায়াতের নেতাদের সংস্পর্শে এসে নিজের মধ্যে পরিবর্তন আসার কথা তুলে ধরেছেন।
ইয়াকুব সরকার ৬০ জন নেতাকর্মী নিয়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। আর একই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ৬৫০ জন জামায়াতে যোগ দেন। অর্থাৎ ৬০ জনের সংখ্যাটি ইয়াকুব সরকারের সঙ্গে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের, আর ৬৫০ জন হলো পুরো অনুষ্ঠানের মোট যোগদানকারীর সংখ্যা।
সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার ও বৈষম্য দূর করতে হবে। তিনি যোগদানকারীদের জামায়াতের আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকে দেশের মানুষের সেবা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সাবেক বিচারপতি, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরাও বক্তব্য দেন এবং নিজেদের জামায়াতে যোগদানের কারণ তুলে ধরেন।
ইয়াকুব সরকারের জামায়াতে যোগদানের ঘটনাটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে। একদিকে তাঁর ভাই ইসহাক সরকারের এনসিপিতে যোগদান, অন্যদিকে ইয়াকুব সরকারের ৬০ জন নেতাকর্মী নিয়ে জামায়াতে যোগদান—দুই ভাইয়ের ভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।