মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ, নীলফামারী:
নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহিদ মাহমুদ মায়ের মৃত্যুর পর মানবিক বিবেচনায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় নীলফামারী শহরের ডাকবাংলা ঈদগাহ মাঠে মায়ের জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে আবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাহিদ মাহমুদের মা রওশন আরা বেগম (৯০) বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় রংপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নীলফামারী শহরের থানাপাড়া এলাকার মরহুম আজিম উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানাজায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। শেষবারের মতো মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে সাহিদ মাহমুদকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। তিনি স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পরে দাফন সম্পন্ন হয়।
পুলিশ জানায়, আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে মানবিক কারণে তাকে সীমিত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পুরো সময়জুড়ে তাকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় রাখা হয় এবং সময় শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সাহিদ মাহমুদ নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রংপুর নগরী থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।