মোস্তাকিম বিল্লাহ, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী গ্রামের কৃতী সন্তান মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতির এক প্রভাবশালী ও জনসম্পৃক্ত নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণমানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯২৪ সালের ৯ জুলাই ডিমলার খগাখড়িবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষসহ বিভিন্ন দুর্যোগে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষের প্রতি তাঁর গভীর মমতা ও সেবার কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি রংপুর জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং বিরোধী দলের উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। আইয়ুববিরোধী আন্দোলনসহ তৎকালীন পাকিস্তানের স্বৈরশাসনবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয় তাঁকে।
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে মশিউর রহমান যাদু মিয়া ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের সংগঠক হিসেবেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। ভাসানীর মৃত্যুর পর তিনি ন্যাপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে তাঁর ভূমিকা তাঁকে নীলফামারীর মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রেখেছে।
১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া। তাঁর মৃত্যুর কয়েক দশক পরও নীলফামারী তথা উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, সমাজসেবক ও জনদরদি মানুষ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
ডিমলার মাটিতে জন্ম নিয়ে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উঠে আসা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার কর্মময় জীবন আজও নীলফামারীবাসীর জন্য গর্বের ইতিহাস।