হারাধন সূত্রধর, পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
জনস্বার্থ রক্ষা, কৃষকদের স্বার্থে সার বিক্রিতে অনিয়ম প্রতিরোধ, খাসজমি উদ্ধার, বাজারে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং আইনবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে নেত্রকোণার বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলার নেত্রকোণা সদর, কেন্দুয়া, মোহনগঞ্জ ও দুর্গাপুর উপজেলায় পৃথক এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নেত্রকোণা সদর উপজেলায় মেসার্স ফকির ব্রাদার্সের মালিককে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া সারের প্রকৃত মজুদের সঙ্গে রেজিস্টারে সংরক্ষিত হিসাবের অসঙ্গতি এবং ক্রেতাকে বিক্রয় রশিদ না দেওয়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে ব্যাখ্যা তলবের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিজা খাতুন।
কেন্দুয়া পৌরসভায় বিভিন্ন সারের দোকান মনিটরিংকালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এবং ডিলারশিপ লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একজনকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।
মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সারের দোকান মনিটরিংকালে রাজন এন্টারপ্রাইজকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া স্টক রেজিস্টারের সঙ্গে গুদামে সংরক্ষিত সারের হিসাবের অসঙ্গতি এবং বিক্রয় রশিদে ওভাররাইটিংয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা খাতুন।
অন্যদিকে, দুর্গাপুর পৌর এলাকার সোমেশ্বরী নদীর তীরসংলগ্ন তেরীবাজার ঘাটে খাসজমিতে গড়ে ওঠা ১০টি কাঁচা ও আধাপাকা টিনশেড স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ অভিযানে প্রায় এক একর খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পৌরসভার লোকজন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান।
এছাড়া নেত্রকোণা পৌরসভা এলাকায় সড়কের ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত ভাসমান দোকানপাটের বিরুদ্ধেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় দুটি মামলায় মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে বাজার তদারকি, সার বিক্রিতে অনিয়ম প্রতিরোধ, খাসজমি উদ্ধার, অবৈধ দখল ও ভাসমান দোকানপাট উচ্ছেদ এবং অন্যান্য আইনবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।