কাইথাং খুমী, থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
পাহাড়ের বুকজুড়ে এখন সোনালি উৎসব। রোদের আলোয় ঝলমল করছে জুমের পাকা ধান। কোথাও চলছে ধান কাটার উৎসব, কোথাও সপরিবারে পাকা ধান পাহারা দিচ্ছেন জুমচাষীরা। ঘরে নতুন ফসল তোলার আনন্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাহাড়ের মানুষ।
প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা জুমের ধান ঘরে উঠতে শুরু করায় জুমিয়াদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। সারা বছরের কষ্ট যেন সার্থক হয়েছে।
কারো জুমে এখন কাস্তের শব্দ। কেউ আবার পাকা ধান নষ্ট হওয়ার ভয়ে রাত-দিন পাহারা দিচ্ছেন। অনেকে ধান কাটার ফাঁকে সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা আর মারফা তুলছেন। আবার কেউ উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছেন।
থানচির তিন্দু, রেমাক্রী, ছোট মদক ও বড় মদক এলাকার জুমিয়াদের এখন দম ফেলার সময় নেই। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ফসল ঘরে তোলার বিশাল কর্মযজ্ঞ।
পার্বত্য বান্দরবানের এইসব এলাকার মানুষ যুগ যুগ ধরে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাহাড়ের ঢালে বন-জঙ্গল পুড়িয়ে যে জমি তৈরি হয়, সেটিই জুম। এখানে কোনো সেচ, সার বা কীটনাশক লাগে না। আকাশের বৃষ্টি আর রোদেই বেড়ে ওঠে ফসল।
জুমচাষী মংসিং মারমা বলেন, এই ধানই আমাদের বছরের ভাত। প্রকৃতি ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকি।
আয়োজকরা বলছেন, জুম শুধু চাষ নয়, এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ।