স্টাফ রিপোর্টার:
জমির দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন কিংবা রেকর্ড সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে ঘুষ না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে বিলম্ব, হয়রানি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন সাধারণ মানুষ।
এবার সেই অভিযোগেরই এক চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে একটি গোপন ক্যামেরার ভিডিওতে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা অফিস কক্ষে বসে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময়ও সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওর বিভিন্ন দৃশ্যে খাবারের প্লেট সামনে রেখেই অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যায়, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে জমির দলিল, নকল উত্তোলন বা রেকর্ড সংক্রান্ত ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয় না। ফলে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, সরকারি সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তবে তা পুরো সেবা ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।