মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ঐতিহাসিক সুযোগে মফস্বল ও তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের নানা সংকটের কথা তুলে ধরেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক নেতা তানভীর হাসান তানু। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে মফস্বল সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা, নিয়মিত বেতন না পাওয়া, কাজের স্বীকৃতি ও মর্যাদার সংকটসহ স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখার নানা চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মতবিনিময়কালে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু এসব বিষয় রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। পরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ঠকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে বলেন, মফস্বলের সংবাদকর্মীরা ভালো নেই; তাঁদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সাংবাদিক নিয়মিত বেতন কিংবা কাজের মাধ্যমে সম্মানজনক পারিশ্রমিক পান না। ফলে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র যদি গণমাধ্যমকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সংঘ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
পোস্টে তানভীর হাসান তানু জানান, মফস্বল সাংবাদিকদের সমস্যার কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতি বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য উদ্ধৃত করে তানভীর হাসান তানু লিখেছেন, “রাষ্ট্র তো কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যাটি আপনাদের নিজেদের মধ্যেও রয়েছে।” তিনি সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সাংবাদিকরা এক হলে রাষ্ট্র সবসময় তাঁদের পাশে থাকবে।
তানভীর হাসান তানু তাঁর পোস্টে রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ হিসেবে তাঁরা সৌভাগ্যবান যে তাঁদেরই একজনকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পেয়েছেন।
তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি ভালো থাকলে দেশ, মাটি ও রাষ্ট্রও ভালো থাকবে—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
পোস্টের শেষাংশে তানভীর হাসান তানু সাংবাদিক সমাজের প্রতি বিভেদ ভুলে এক টেবিলে বসে নিজেদের সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির সামনে মফস্বল সাংবাদিকদের সংকটের কথা তুলে ধরার ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন মফস্বল সাংবাদিকদের দাবি ও রাষ্ট্রপতির দেওয়া আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয়—সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।