মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১২ বোতল নেশাজাতীয় এসকাফ (Eskuf) সিরাপসহ হাবিবুল্লাহ ওরফে হাবিব (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। তবে মামলার অপর আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমানুল্লাহ আল বারীর নেতৃত্বে উপজেলার ১ নম্বর ধর্মগড় ইউনিয়নের ভান্ডেশ্বরী জোড়পুকুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানে মো. বকুল হোসেনের বসতবাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তার ওপর থেকে মাদকদ্রব্যসহ হাবিবুল্লাহ ওরফে হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রহমতুল্লাহ রনি, এসআই মো. রাশেদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার আসামিরা হলেন—মো. হাবিবুল্লাহ ওরফে হাবিব (৩০), পিতা মৃত আইচুর আলী, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ এলাকার বাসিন্দা এবং মো. বকুল হোসেন (২৭), পিতা মো. আব্দুল হক, রাণীশংকৈল উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, আসামিরা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৫০০ পিস ইয়াবা, যার ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ১০০ মিলিলিটারের ১২ বোতল এসকাফ (Eskuf) সিরাপ উদ্ধার করা হয়। যার মোট পরিমাণ ১ হাজার ২০০ মিলিলিটার এবং আনুমানিক মূল্য ১৮ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত এসকাফ সিরাপের বোতলে Codeine Phosphate ও Triprolidine Hydrochloride উপাদানের উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় রাণীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাণীশংকৈল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রহমতুল্লাহ রনি বলেন, “অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ হাবিবুল্লাহ ওরফে হাবিবকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। মামলার অপর আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
পুলিশ জানায়, রাণীশংকৈল ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।