স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের মাত্র এক বছরের মাথায় আবারও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের এমন বেহাল অবস্থায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম এবং প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেটের অবাধে ভারী ট্রলি চলাচলের কারণে বাঁধটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নে বুড়ি তিস্তা নদী খননের পাশাপাশি ঘাটের পাড় থেকে ডাউয়াবাড়ী পর্যন্ত ডান ও বাম তীরের প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের চলাচলের প্রধান এই বাঁধটি এখন বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল, ধস ও গর্তের কারণে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টিপাত বাড়লে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আইনুল হক, আশরাফুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “বাঁধের সংস্কার কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও কোনো প্রকল্পের সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। কাজের মান নিয়েও আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। ব্যাপক অনিয়মের কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধটি আবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।”
এদিকে বাঁধের নাজুক অবস্থার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভারী ট্রলি চলাচল। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি বালু সিন্ডিকেট নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এবং দিন-রাত ট্রাক্টর ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
কলোনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনারুল ইসলাম বলেন, “এমনিতেই বাঁধের অবস্থা খারাপ। তার ওপর ভারী ট্রলি চলাচলের কারণে এটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোরশেদুল ইসলাম জানান, বাঁধ ও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
গোলমুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অতিরিক্ত ভারবাহী ট্রলি চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক ও বাঁধ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকায় প্রকল্পের ব্যয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী বুড়ি তিস্তা রক্ষা বাঁধের টেকসই সংস্কার, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ভারী ট্রলি চলাচল নিয়ন্ত্রণে জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামী বর্ষায় বাঁধ ভেঙে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।