মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুজিবুর রহমানের বদলি আদেশকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে জনবান্ধব ভূমিকা, দ্রুত ভূমি সেবা প্রদান, সততা ও সাহসিকতার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তার বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা করে রাণীশংকৈলে বহালের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, নামজারি, খারিজসহ নানা কাজে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে এসিল্যান্ড মুজিবুর রহমান কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। সেবা নিতে আসা মানুষের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তিনি স্থানীয়দের প্রশংসা পেয়েছেন বলেও জানান তারা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি অনিয়ম ও তদবিরের প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের কাছে একজন সেবাবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
এদিকে তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাণীশংকৈলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, একজন জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বদলিতে তারা বিস্মিত। তাদের মতে, ভূমি সেবায় সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে—এমন কর্মকর্তাকে একই কর্মস্থলে রেখে কাজ করার সুযোগ দিলে জনসেবা আরও গতিশীল হতে পারে।
তবে বদলি আদেশের প্রকৃত প্রশাসনিক কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা স্থানীয় পর্যায়ে স্পষ্ট নয়। এ কারণে বদলির পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপ কিংবা প্রভাব রয়েছে—এমন কোনো দাবি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও সেগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনস্বার্থ ও চলমান ভূমি সেবা কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুজিবুর রহমানের বদলি আদেশটি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহল পুনর্বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে তাকে রাণীশংকৈলে বহাল রেখে সাধারণ মানুষের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, সেবায় আস্থা ও দায়িত্ব পালনে সাহসিকতার কারণে যে কর্মকর্তা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন, তার কর্মস্থল পরিবর্তনের আগে জনস্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
রাণীশংকৈলবাসীর একাংশ আশা করছেন, বিষয়টি ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সদয় দৃষ্টিতে আসবে এবং প্রশাসনিক বিধি-বিধান ও জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।