মোঃ শহিদুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের নকলায় নদীতে ডুবে যাওয়া এক শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে লামিয়া আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন লামিয়া ও তার যমজ বোন সামিয়া আক্তার। শিশুটিকে উদ্ধার করা গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান লামিয়া; ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন তার যমজ বোন সামিয়া।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নকলা উপজেলার চরমধুয়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। লামিয়ার মৃত্যুতে পরিবার-স্বজনের পাশাপাশি পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরমধুয়া গ্রামের সেলিম রেজার যমজ দুই মেয়ে লামিয়া আক্তার ও সামিয়া আক্তার নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় তারা সিজদা (৮) নামে এক শিশুকে নদীর পানিতে ডুবে যেতে দেখে।
শিশুটিকে বাঁচাতে মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন দুই বোন। প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে একপর্যায়ে তারা সিজদাকে পানির ওপর তুলে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু শিশুটিকে উদ্ধারের পরপরই লামিয়া নিজেই পানিতে তলিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে লামিয়াকে উদ্ধার করেন। তাকে উদ্ধারের পর দ্রুত প্রয়োজনীয় চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে, লামিয়ার যমজ বোন সামিয়া আক্তার প্রাণে বেঁচে যান।
নিহত লামিয়া আক্তার চরমধুয়া গ্রামের সেলিম রেজার যমজ কন্যা। একই সঙ্গে বেড়ে ওঠা দুই বোনের একজনকে হারিয়ে পরিবারটি শোকে স্তব্ধ। স্বজনদের কান্না-আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
স্থানীয়রা বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য একটি শিশুর প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে লামিয়ার মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। মাত্র ১৪ বছর বয়সে অন্যের জীবন বাঁচাতে তার এই সাহসিকতা ও মানবিকতার পরিচয় এলাকাবাসীর মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একটি শিশুর জীবন রক্ষা পেল, কিন্তু সেই জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিভে গেল ১৪ বছরের লামিয়ার প্রাণ। যমজ বোনকে হারিয়ে শোকে কাতর পরিবার; আর লামিয়ার সাহসিকতা ও আত্মত্যাগে শোকাহত চরমধুয়া গ্রামের মানুষ।