মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে জরুরি ভিত্তিতে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের হাসপাতাল অনুবিভাগের উপসচিব মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের ওই চিঠিতে বলা হয়, ঠাকুরগাঁও জেলার নির্বাচনী এলাকা-০৩-এ অবস্থিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি জরুরি ভিত্তিতে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্মারক এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে জরুরি ভিত্তিতে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এই উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবা সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে জেলার প্রধান এই সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষও চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। ফলে বিদ্যমান শয্যা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতালের সরকারি ওয়েবসাইটেও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় উল্লেখ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ওয়ার্ডে নতুন ১০টি বেড সংযোজনসহ হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হলে হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি নতুন ওয়ার্ড, চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসক-নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল এবং অন্যান্য অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়েও ইতোমধ্যে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে এবং ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালকে আরও বড় পরিসরে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।
ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে হাসপাতালটিকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এতে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং সংকটাপন্ন রোগীদের অন্যত্র রেফারের চাপও কমতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা চিঠির তারিখ ১৯ জুলাই ২০২৬।