নারায়ণ দাসের স্বপ্ন জাগে, শীতলক্ষ্যার তীরে,
মসলিনের পসরা গাঁথা, প্রাচীন বর্ণচিত্র ঘিরে!
সোনারগাঁয়ে বাজতো ধ্বনি, বাংলার রাজ-সিংহাসন,
মুঘল আমল জাগায় স্মৃতি, ঐতিহ্যের পবিত্র বন।
ব্রিটিশ এলো, গড়লো কল, জুট মিলের রাজ্য সাজে,
প্রাচ্যের ডান্ডি নামে তখন, খ্যাতি বিশ্বে বাজে!
আদমজী মিল, ইস্পাত হৃদয়, গৌরব বয়ে আনে,
টেক্সটাইল আর বাণিজ্য তার, ছিলো জাতির প্রাণে।
একাত্তরে রক্ত ঝরল, স্বাধীনতার রুদ্র রাগে,
নারায়ণগঞ্জে প্রতিরোধ, শহীদের রক্তছাপে!
বন্দরে যে গর্জে উঠলো, সাহস আর প্রতিশ্রুতি,
আজো সেই দিন শোনায় গান, বাংলার অমর স্মৃতি।
শিল্প-বন্দর, কল-কারখানা, কর্মযজ্ঞের ঢেউ,
রপ্তানি আর উৎপাদনের, প্রসারিত পড়ে নেউ!
ইপিজেড আর সিপিজেডে, জেগে উঠে আলো,
আধুনিকতা ও ঐতিহ্য এক, একসাথে চলে চালো।
পাটকল, শিপইয়ার্ড, টেক্সটাইল, গড়ে তোলে রথ,
শিল্প ঐতিহ্যের বুকে বাজে, শ্রমিক জীবনের বাজনা পথ!
কদম রসুল, সালেহ মসজিদ, হাজীগঞ্জের তীর,
গোয়ালদি মসজিদের ঘ্রাণে মিশে, প্রার্থনার নীর।
দুর্গাপূজা, ঈদ মিলে যায়, উৎসবে জনতার ঢল,
নৌকাবাইচ, গ্রামীণ মেলা, সংস্কৃতির কোলাহল!
রসমালাই, হাঁড়ির বিরিয়ানি, খাঁটি স্বাদের ধারা,
শিক্ষার আলো, শিল্পের ছায়া, একত্রে পথহারা।
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে, সূর্য যখন নামে,
নৌকোর ছায়া আঁকে ছবি, স্মৃতির গহীন ঘরে!
জাহাজ চলে, কলকারখানা—জলে-স্থলে সুর,
নদীর বুকে বয়ে চলে, এক ইতিহাস-নূর।
সোনারগাঁওয়ের স্বপ্নরাজ্য, লোকশিল্পে ভরা,
পানাম নগরী শতাব্দী ছুঁয়ে, আজও দাঁড়ায় ধরা!
ইট-কাঠের সরু গলি, ইতিহাসের পাতা,
এক পা ফেললেই যেন বাজে, প্রাচীন বাংলার গাথা।
মুরাপাড়ার জমিদারী, ঔপনিবেশিক ছাঁদে,
ধুপদিয়ার শ্মশানঘাটে, নীরবতা বাজে চাঁদে!
ফতুল্লা, রূপগঞ্জ, সবুজ গাঁয়ে, শস্যের ছায়াপথ,
প্রকৃতি আর প্রাণের মিলন, জাগায় শান্তির রথ।
শিল্পের কোল ঘেঁষে থাকে, প্রকৃতির মায়াময় রূপ,
নদী-খাল আর আধুনিকতা, পাশাপাশি দেয় ধূপ!
বাজার গলি, অট্টালিকা, শহরের স্পন্দন বাজে,
একটুকরো স্বপ্ন সাজানো, জীবনের ব্যস্ত সাজে।
পর্যটন আর সংস্কৃতির মিল, এক নতুন সম্ভাবনা,
নারায়ণগঞ্জে হৃদয় খোলে, মেলে সৃষ্টির জানালা!
জনতার জীবন, উৎসবমুখর, ঐক্যে বাঁধা প্রাণ,
ইতিহাস আর আগামীর মাঝে, বাজে মিলনের গান।
নারায়ণগঞ্জ পৃথিবীর বুকে তুমি আমার গৌরব,
বাংলার বুকে চির অমর, স্বপ্নের স্থির সৌরভ!
ইতিহাসে পথ দেখাও তুমি, ঐক্যের মধুর কলভ,
তোমার নামে জাগে চেতনায়, সাহস-ভরা আরবভ।