সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক ও মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের লক্ষ্যে জায়গাটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও ব্যাপক জনপরামর্শের আহ্বান জানাচ্ছি।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য একটি মানসম্মত জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং নগরবাসীর জন্য সবুজ, উন্মুক্ত ও নান্দনিক স্থান সৃষ্টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থলের এত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান একটি জায়গার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে নগরবাসীর মতামত, নগর পরিকল্পনা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব—সবকিছুই সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আমার প্রশ্ন হলো—এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিলেটের সাধারণ নাগরিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের মতামত কতটুকু গ্রহণ করা হয়েছে?
আমি মনে করি, ব্যাপক জনমত যাচাই ও উন্মুক্ত গণশুনানি ছাড়া নগরীর ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা সমীচীন নয়।
পুরাতন কারাগারের জায়গাটি একটি অত্যন্ত ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত। সেখানে বড় আকারের পার্ক ও দর্শনার্থীনির্ভর স্থাপনা নির্মিত হলে অতিরিক্ত মানুষের সমাগম এবং যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পর্যাপ্ত পার্কিং, প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হলে আশপাশের সড়কে যানজট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও প্রভাবিত হতে পারে।
তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব করছি, চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ Traffic Impact Assessment, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা এবং অর্থনৈতিক ও নগর পরিকল্পনাগত সম্ভাব্যতা যাচাই করা হোক।
একই সঙ্গে পুরাতন কারাগারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে জায়গাটির জন্য একাধিক বিকল্প মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে সেগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে। এরপর গণশুনানি ও নাগরিক মতামতের ভিত্তিতে একটি দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক।
আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমি পার্ক কিংবা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করছি না। আমার বক্তব্য হচ্ছে, নগরীর এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গার ব্যবহার নির্ধারণে সিদ্ধান্তটি যেন আবেগনির্ভর বা তাড়াহুড়োর না হয়ে তথ্য, গবেষণা, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং সর্বোপরি সিলেটবাসীর মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়।
সিলেট নগরীর সরকারি ভূমি ও সম্পদ বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও সম্পদ। তাই এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার।
উন্নয়ন অবশ্যই চাই—কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে পরিকল্পিত, জনবান্ধব, টেকসই এবং জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সিলেটবাসীর কথা শুনুন। জনমত নিন। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিন। তারপর সিলেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিন।
ডক্টর এম এ মোশতাক
মেয়র পদপ্রার্থী
সিলেট সিটি কর্পোরেশন