• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সাতকানিয়ার প্রভাবশালী আরেফাগং এর ৩ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী কারাগারে, মা-মেয়ে পলাতক চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ১ম কমিউনিটি কাবাডি টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ‘গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’ —আল্লামা মামুনুল হক আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ গড়ার প্রত্যয়ে সোহরাব আলী সিংড়ায় হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনের হাওয়া, মুখোমুখি প্রার্থী আব্দুল রশিদ পাবনার ফরিদপুরে সাকিব হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন গরু চুরির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে ডিমলার কৃষকদের অল টাইম ক্লিন সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে জগন্নাথপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা সিংগাইরে গোল্ডকাপের ট্রফি উম্মোচন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত ৭ দফা দাবি আদায়ে নওগাঁয় দলিল লেখকদের সমাবেশ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের খুলনা দাকোপ উপজেলার সুপারভাইজার মোঃ মওদুদ আহমেদকে স্ট্যান্ড রিলিজ

Reporter Name / ১৪৬ Time View
Update : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 

বিশেষ প্রতিনিধ,খুলনা
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক সুপারভাইজার মোঃ মওদুদ আহমেদ কে দাকোপ উপজেলায় বদলি করা হয় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনৈতিক সম্পর্ক, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে স্ট্যান্ড রিলিজের মাধ্যমে তাঁকে দাকোপ উপজেলা থেকে বরগুনা জেলায় বদলি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বকালীন সময়ে জনাব মওদুদ আহমেদ নিয়মিতভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন—বাজার-সদাই, জামাকাপড়, মোটরসাইকেলের জ্বালানি, এমনকি চিংড়ি-ইলিশ মাছ আদায় করতেন। কেউ অনুরোধ রাখতে না পারলে, তাঁদের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষক।
এছাড়াও জানা গেছে, বটিয়াঘাটার লবণচোরা সৈয়দবাড়ি এলাকায় জমি ক্রয় করে তিনি এক শিক্ষককে দিয়ে জমি ভরাট করান এবং সেই শিক্ষকের প্রায় ৫০ হাজার টাকা এখনো পরিশোধ করেননি। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অস্বচ্ছ উপায়ে অর্থ ও সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
৫ আগস্টের পর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসে। একাধিক শিক্ষক জানান, মওদুদ আহমেদ নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের (জামায়াত সংশ্লিষ্টতা দাবি করা হয়েছে) প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেন জামায়াতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। শিক্ষক সমাজ বলছেন, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব সহকারে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বের বির্তকিত কর্মকাণ্ডও সামনে আসছে মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে তাঁকে বদলি করা হয়।যশোরে দায়িত্ব পালনকালে ৫২ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে।
২০১৮ সালে বাগেরহাটের শরণখোলায় রেশমা খাতুন নামের এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন, এবং মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
‘আমার কিছুই হবে না’: প্রভাব দেখানোর অভিযোগ
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, মওদুদ আহমেদ প্রায়ই বলতেন।
আমার হাতের মুঠোয় জেলা অফিসের সবাই। ফিল্ড অফিসার, ডিডি—কেউই আমার কিছু করতে পারবে না। তার বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে মোঃমওদুদ আহমেদ এর ইস্টার্ন রিলিজ ঠেকানোর জন্য ওলমাত হয়ে উঠেছেন।
শিক্ষক-শিক্ষিকারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বাধ্য হয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষক সমাজের দাবি
ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন:
অভিযোগগুলো আমাদের কাছে এসেছে। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, শুধু বদলি নয় উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে চাকরিচ্যুতি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁরা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিক্ষক-জনগণের উদ্বেগ: নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ছে
বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সাধারণ জনগণ একযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন—
সব অভিযোগ জেনেও যদি এমন কর্মকর্তারা বারবার নতুন উপজেলায় বদলি হয়ে একই অপরাধ করতে পারেন, তাহলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তি এবং দেশের নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এর প্রভাব মারাত্মক হবে।”
খুলনা জেলার শিক্ষক সমাজের দাবি, শিক্ষা খাতে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলো আর উপেক্ষা করার সময় নেই। সময়মতো তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো প্রজন্মের নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন,এজন্য প্রকল্প পরিচালকের কর্মকর্তাদের খুলনা জেলার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার শিক্ষক-শিক্ষিকা গণ স্বস্তি পেয়েছেন ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd