• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

খুলনায় মেহেদি দেওয়া হাত ও আংটিতে পাওয়া গেল মাথাবিহীন নারীর পরিচয়

Reporter Name / ১৫১ Time View
Update : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

 

নাজমুল তারেক তুষার, খুলনা:

খুলনার কাজিবাছা নদী থেকে গত বছরের ১৯ আগস্ট মাথা ও পোশাকবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হাত পচে যাওয়ায় আঙুলের ছাপ দিয়ে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট বটিয়াঘাটা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে অজ্ঞাতপরিচয় লাশটি দাফন করা হয় নগরীর গোয়ালখালী কবরস্থানে। এরপর সবাই বিষয়টি ভুলে গিয়েছিল।

মরদেহ উদ্ধারের দেড় মাস পর গত ৮ অক্টোবর খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাজিয়াড়া গ্রামের সালেহা বেগম নামের এক নারীকে অপহরণের অভিযোগ তুলে নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন তাঁর ছেলে শামীম ফকির। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। দায়িত্ব পান সংস্থার উপপরিদর্শক রেজোয়ান।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার বাদী তাদের জানান, তাঁর মা ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সৌদে আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। দেশে ফিরে ২০২৪ সালে ঢাকায় আরেক বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে যান। গত ১৯ আগস্ট থেকে তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাচ্ছেন। প্রতিবেশী লালন গাজীর সঙ্গে তাঁর মায়ের ভালো সম্পর্ক ছিল। এজন্য তাঁরা লালনকে সন্দেহ করছেন।

খবর পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ওই ভাড়া বাড়িতে যান। সালেহা বেগম এবং লালনের ছবি দেখানো হলে প্রতিবেশীরা তাদের শনাক্ত করেন। তারা জানান, ওই নারী একাই বাড়িতে থাকতেন। ১০/১৫ দিন পরপর স্বামী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি ওই বাড়িতে আসতেন। গত ১৯ আগস্ট তারা একসঙ্গে মামা বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর ২৫ আগস্ট লালন একা ফেরত এসে ঘরের মালপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে দেন। মুদি দোকানের বাকি টাকাও পরিশোধ করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রেজোয়ান বলেন, ‘সন্দেহজনক তথ্য পেয়ে আমরা বটিয়াঘাটার সর্বশেষ লোকেশন খুঁজতে থাকি। সেই সঙ্গে থানায়ও খোঁজ নেই। তখন জানতে পারি ১৯ আগস্ট রাতে নদী থেকে এক নারীর মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় চেহারা বিকৃত হয়ে যায়। থানায় সংরক্ষণ করা ছবি দেখে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। তখন তাঁর হাতের একটি ছবি পাওয়া যায়, সেখানে মেহেদী দেওয়া এবং আংটি পরা ছিল।

আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে লালন স্বীকার করেন, দেশে ফেরার পর সালেহা বেগমের জমানো ১৫/১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিতে তিনি তাঁকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। ইন্দুরকানীতে তাঁর ব্যবসা ছিল। তখন সালেহা বেগমকে ইন্দুরকানীতে নিয়ে ভাড়া বাসায় রাখেন। এক বছর যেতেই সালেহা তাঁকে রেজিস্ট্রি বিয়ে করার জন্য চাপ দেন এবং বিয়ে না করলে তাঁর বাড়িতে গিয়ে উঠবেন বলে জানান। তখন লালন গাজী হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁকে বটিয়াঘাটায় মামাতো ভাই সিজার মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যান। ১৯ আগস্ট সিজার মোল্লা মিলে সালেহা বেগমকে হত্যা করা হয়। লাশের পরিচয় লুকানোর জন্য মাথা কেটে ফেলা এবং জামাকাপড় খুলে ফেলা হয়। তাঁরা সবকিছু নদীতে ফেলে দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার অন্যতম আসামি সিজার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় তদন্ত আটকে ছিল। সিজার মোল্লা অত্যন্ত ধুরন্ধর হওয়ায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না এবং নিজের পরিবারসহ এলাকার কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না। অনেক চেষ্টার পর গত ১ মার্চ রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মগবাজার এলাকা থেকে সিজার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়। গত ২ মার্চ রাতে সিজার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জাবনবন্দিতে হত্যার পুরো ঘটনা স্বীকার করেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তও শেষ হওয়ায় এখন আনুষ্ঠানিকতা শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

নিহতের ছেলে শামীম ফকির বলেন, ‘মাকে তো ফেরত পাব না। হত্যাকারীদের ফাঁসি হলে কিছুটা শান্তি পাব।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd