মো: আল-মাহফুজ শাওন
উন্নত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে খুলনার কয়রা থেকে সাতক্ষীরার তালায় নিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তালা থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাঠি গ্রামের ওই গৃহবধূ অসুস্থ ছিলেন। তাকে ভালো চিকিৎসকের কাছে দেখানোর কথা বলে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার কথা জানান রাজু নামের এক যুবক। তিনি সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে কর্মরত বলে জানা গেছে।
পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরা সদরে আর চিকিৎসক পাওয়া যাবে না—এমন কথা বলে রাজু ওই গৃহবধূকে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই এক নারী অবস্থান করছিলেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই নারীর সহযোগিতায় খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করা হয়। পরে জ্ঞান ফেরার পর তিনি ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজু ও অপর এক যুবক রাতভর পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন।
এ সময় বিষয়টি ওই নারীকে জানালে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং গোপনে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে দফায় দফায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কৌশলে ওই বাসা থেকে বের হয়ে তালা থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আশ্রয় নেন ভুক্তভোগী। পরে পুলিশ তার স্বজনদের খবর দেয়। স্বজনরা থানায় উপস্থিত হলে তাদের সঙ্গে নিয়ে গৃহবধূ থানায় অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার তিনি বাদী হয়ে তালা থানায় মামলা করেন। মামলায় এক নারীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দীক বলেন, সকালে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ওই নারী থানায় এসে অভিযোগ করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী গৃহবধূকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।