স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একটি নিরীহ পরিবারকে লক্ষ্য করে মিথ্যা ও পরিকল্পিত মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ডিমলা উপজেলার খগার হাট এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের সুন্দরখাতা গ্রামের বাসিন্দা নাজমা নামের এক নারী ডিমলা থানায় মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় (মামলা নং–১০, তারিখ: ১৪/১২/২৫ ইং) ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও আল আমিন, তার পিতা মুকিল এবং চাচা মোকছেদুলকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, মামলাটি নথিভুক্ত করার আগে পুলিশ ঘটনার কোনো প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করেনি, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
মিথ্যা মামলার কারণে পরিবারটি বর্তমানে চরম মানসিক চাপ, সামাজিক হেয় প্রতিপন্ন হওয়া এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তারা বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে মামলায় জড়িয়ে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রবণতা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রশাসনের কিছু দায়িত্বহীনতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবার নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত দোষীরা শনাক্ত হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীরা আইনের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগীরা ন্যায়সঙ্গত তদন্ত ও সুবিচার প্রত্যাশা করেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে এমন মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।