মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার রাজনীতিতে এক পরিচিত ও আস্থার নাম মোঃ জহুরুল ইসলাম বকুল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিজের মেধা, শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে তৃণমূল সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে তিনি অবিচল ভূমিকা পালন করে আসছেন। জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি থেকে শুরু করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘকাল দায়িত্ব সামলেছেন এই প্রবীণ জননেতা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সাল থেকে টানা ১৫ বছর দক্ষতার সাথে ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন মোঃ জহুরুল ইসলাম বকুল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তৃণমূল নেতাকর্মীদের জোরালো সমর্থনে তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে একসুতোয় বেঁধে রেখেছেন তিনি। তার হাত ধরেই অঞ্চলে গড়ে উঠেছেন অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী, যাদের তিনি সর্বদাই অভিভাবকের মতো দিকনির্দেশনা ও সামাজিক মূল্যায়ন প্রদান করে আসছেন।
ঐতিহাসিক স্মৃতির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীরা জানান, ১৯৮৮ সালে ফরিদপুর উপজেলায় বিএনপির এক বিশাল জনসভায় যোগদান করেছিলেন দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। জনসভা শেষে তিনি ফরিদপুর উপজেলার নিবেদিতপ্রাণ নেতা মোঃ জহুরুল ইসলাম বকুলের বাসভবনে নৈশভোজে অংশ নেন—যা বকুলের দলের প্রতি একনিষ্ঠতা ও জাতীয় নেতৃত্বের নিকট তার গ্রহণযোগ্যতার এক উজ্জ্বল ঐতিহাসিক নিদর্শন।
রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি জনসেবাতেও উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন এই নেতা। ২০০৯ সালে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ফরিদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোঃ জহুরুল ইসলাম বকুল। তার মেয়াদে এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়। সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে সর্বদা পাশে থাকায় সর্বস্তরের জনগণের কাছে তিনি একজন মানবিক ও পরোপকারী প্রতিনিধি হিসেবে সুপরিচিত।
বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত থাকায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রেক্ষাপটে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন জহুরুল ইসলাম বকুলের নাম। তৃণমূলের সিংহভাগ নেতাকর্মী দলের এই দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও প্রবীণ অভিভাবককেই পুনরায় ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে দেখতে চান।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, রাজনীতির বর্তমান ক্রান্তিকালে দল পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের বিকল্প নেই। জহুরুল ইসলাম বকুলের মতো জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত নেতা পুনঃরায় ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির হাল ধরলে সংগঠনটি আরও সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।