হারাধন সূত্রধর, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. আউয়াল ওরফে রবিনকে (২৪) ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ। তিনি খলিশাউড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. কামাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর থানা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) ফয়সাল সঙ্গীয় কর্মকর্তা ও ফোর্স নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে এপিবিএন-১, উত্তরা, ঢাকার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার ভুক্তভোগী রনি বেগম (৩২) জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। প্রায় আট মাস আগে তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর চার বছর বয়সী ছেলে রাকিকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ভুক্তভোগী বাড়ির পাশে গেলে রবিন তাঁকে ইশারায় ডেকে নিয়ে যান। পরে খলিশাউড় ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার নয়ন মিয়ার একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার সময় স্থানীয় এক নারী সেখানে গেলে রবিন দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির উঠানে এসে দাঁড়ান। পরে ওই নারী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে তাঁর বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে ঘটনার বিষয়টি জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা মো. রফিক মিয়া (৫৪) বাদী হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে পূর্বধলা থানায় মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় করা হয়। মামলার নম্বর ৪২।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর অবস্থান ঢাকায় শনাক্ত হলে বিমানবন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রবিন মামলার ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জেলা পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির অনুমতি চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে পৃথক আবেদন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”