জেসমিন আক্তার মনি, রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরে সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিরোধীদল অতীতের মতোই ভূমিকা পালন করে এখন শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে সহায়তা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। গ্যাস সংকটসহ চলমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে একসঙ্গে সব সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। দেশের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ওই আন্দোলনে প্রায় চার হাজার ছাত্র, নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি গত ১৭ বছরে লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা, অসংখ্য গুম এবং হাজার হাজার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব এখনো দেশের ওপর রয়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশ প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে দেশের অর্থনীতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সরকার ধীরে ধীরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সংকট নিরসন করে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তারা এখনই দেশের সব সমস্যার সমাধান দাবি করছে এবং আগের সরকারের ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মুসফিকুল ফজল আনসারী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের প্রশাসক, রংপুরের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।