বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে’ সিলেটের বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৬২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪’র ১৫(৩)/২৫ডি ধারায় উপজেলার অলংকারী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ইরন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ৯২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও এবং আরোও ৬০/৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে থানায় দায়ের করা মামলা নং ১৭ (তাং ২১.০৮.২০২৬ইং)।
এদিকে মামলা দায়েরের পর পরই শুক্রবার দিবাগত রাতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুমকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল কাইয়ুম পৌর শহরের অলংকারী গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর পুত্র।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদকে প্রধান অভিযুক্ত করে দায়ের করা মামলায় উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মকদ্দছ আলী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজ মিয়া, সদস্য কবির আহমদ কুব্বার, এনামুল হক এনাম মেম্বার, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মুহিবুর রহমান সুইট, বিশ্বনাথ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা-পৌর শাখার সদস্য রফিক হাসান, ফজর আলী, বারাম উদ্দিন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পৌর শাখার আহবায়ক আব্দুল জলিল জালাল, যুগ্ম আহবায়ক আলতাব হোসেন, সদস্য শংকর দাস শংকু, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের খাজাঞ্চী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আব্দুর নূর, সাধারণ সম্পাদক শংকর চন্দ্র ধর, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অলংকারী ইউনিয়ন শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরা মিয়া, রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার শেখ ফজর রহমান, নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি পার্থ সারর্থী দাশ পাপ্পু প্রমুখ’সহ ৯২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরোও ৬০/৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- শামীম, রুহেল খান, ওয়াহাব আলী, জুনাব আলী, আবদুল হান্নান তোতা, হাবিব মিয়া, দুদু, মানিক মিয়া, রফিক মিয়া, শাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দ হোসেন, আব্দুস ছত্তার, সেলিম মিয়া, ইবাদুল ইসলাম, শাহজাহান সিরাজ, বাবুল মিয়া, আব্দুল মনাফ, আবুল কালাম, আব্দুস ছোবান, কাওছার আহমদ, মতিন আহমদ, মঈন উদ্দিন, সালমান খান, লায়েক আহমদ, জাহেদ আহমদ, আমিনুল ইসলাম, সাহেদ মিয়া, সানুর আলী, সিরাজুল হক, আব্দুল মান্নান, আব্দুস শহিদ, তোরণ মিয়া, শামিম মিয়া, খোকন মিয়া, রাজন মিয়া, নজরুল ইসলাম, মামুন মিয়া, শামছুল হক, ইয়াছিন আলী, আনোয়ার হোসেন আনোয়ার, জসিম উদ্দিন, আকবর আলী, কমরু মিয়া, শাহেদ, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ মিয়া, এখলাছ মিয়া, বাবুল মিয়া, রাজন মিয়া, সারোয়ার মিয়া, জুবেল মিয়া, নাহি মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, নাছির আলী, রাসেল মিয়া, ফয়ছল আহমদ, শেখ সালমান আহমদ, আব্দুল আহাদ রোকন, বাচ্চু মিয়া, নজমুল আলম, বদরুল আলম, জয়নাল মিয়া, আকরাম মিয়া, নুরুজ্জামান, রেনু মিয়া, জামাল মিয়া, রনি মিয়া, আফাজ মিয়া, শাহিন মিয়া, ফারুক মিয়া, কাজী সাঈদ। এদিকে ওই মামলায় বিশ্বনাথ উপজেলার পাশাপাশি ওসমানীনগর উপজেলার একাধিক ব্যক্তিকেও এজাহারনামীয় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট রাতে উপজেলার রামপাশা এলাকায় অভিযুক্তরা রাস্তার ওপরে গাড়ির টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও মিছিলের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে। সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ম্লোগান দেয়। এলাকায় আতংকের সৃষ্টি করে।
মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন, সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র, ত্রাস সৃষ্টি, দেশের উন্নয়নে ব্যাঘাত, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাশকতার পরিকল্পনা’সহ বিভিন্ন বিষয়ের অভিযোগ এনে বাদী মামলাটি দায়ের করেছেন মর্মে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় মামলা দায়ের ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল কাইয়ুমকে গ্রেপ্তারের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল কাইয়ুমকে আজ (শনিবার) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।