মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনার বটিয়াঘাটা-চালনা প্রধান সড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন চার বন্ধু। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকার সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেলে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে গাড়ির মধ্যে চালক আটকা পড়লেও পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বটিয়াঘাটা উপজেলার গোপালখালী ওয়াইসি রিসোর্ট সংলগ্ন এলাকায় এই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চার বন্ধু মিলে প্রাইভেটকারে করে ছুটির দিনে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। গাড়িটি বটিয়াঘাটা-চালনা প্রধান সড়ক ধরে চালনার দিকে যাওয়ার সময় গোপালখালী ওয়াইসি রিসোর্টের কাছাকাছি পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে সটান ধাক্কা খায়। বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দেখতে পান প্রাইভেটকারটির সামনের অংশ পুরোপুরি পিষে গেছে।
সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, গাড়ির চালক রকিবুল ইসলাম চালকের আসনেই আটকা পড়েন এবং বের হতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাৎক্ষণিকভাবে বটিয়াঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টার পর গাড়িটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে চালক রকিবুল ইসলামকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রাথমিক সূত্র জানায়, প্রাইভেটকারটির যন্ত্রাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অলৌকিকভাবে গাড়িতে থাকা চার বন্ধুই বড় ধরনের কোনো শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই বেঁচে গেছেন। তবে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। তবে স্থানীয়দের ধারণা, অতিরিক্ত গতি কিংবা চাকা পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রতিনিধি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। চালকসহ বাকিরা এখন আশঙ্কামুক্ত। তবে গাড়িটির ওভার স্পিড ছিল কি না কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।