শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরে সাধারণ মানুষের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারণা চক্রের মূলহোতা মো. মমিনুল ইসলাম হিমুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী হিমু প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আত্মগোপনে থাকার পর পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আত্মসাৎ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় সরানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওষুধ ব্যবসার আড়ালে মমিনুল ইসলাম হিমু বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যবসায় বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শেরপুরের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হিমুর দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে অনেকে নিজেদের সঞ্চয় ও ব্যবসার মূলধন থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা তার কাছে বিনিয়োগ করেন। একপর্যায়ে প্রায় ২ কোটি টাকা সংগ্রহের পর হঠাৎ তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এবং পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে ভুক্তভোগীরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হিমুকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হিমুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের গতিপথ এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি আত্মসাৎ করা প্রায় ২ কোটি টাকা দ্রুত উদ্ধার করে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে মামলার তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।