• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
পাঁচবিবিতে সাঁওতাল জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় করণীয় শীর্ষক কর্মশালা ও আলোচনা সভা আবারও কি নৌযান আর মানুষের কোলাহলে মুখর হবে নেত্রকোনার প্রাণ মগড়া নদী? ছোটগল্পঃ আনন্দিতার খোলাচিঠি জবির ছয় বাসে ওয়াই-ফাই, একসঙ্গে যুক্ত হতে পারবে ৩২ জন এমপি জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে লেকের মশা নিধনে মাঠে নামল বিশেষ দল ফরিদপুর থানায় সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ফরিদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় যুবক গ্রেফতার প্রেম-বিয়ে ও পুলিশ পরিচয়ের পর যৌতুক মামলায় রাণীশংকৈলে গ্রেপ্তার নীরব বেনাপোলে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ গড়তে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ, ৩ মাসে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ সিংড়ার জামায়াত প্রার্থী কামরুল চৌগ্রামের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরলেন

আবারও কি নৌযান আর মানুষের কোলাহলে মুখর হবে নেত্রকোনার প্রাণ মগড়া নদী?

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হারাধন সূত্রধর, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:

একসময় নেত্রকোনার মগড়া নদীতে ছিল জোয়ার-ভাটা। নদীর বুক দিয়ে চলত পালতোলা নৌকা, স্টিমার ও লঞ্চ। বরিশাল, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসত বড় বড় মহাজনি নৌকা। ধান-পাটসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করতেন দেশের নানা প্রান্তে। নৌযানের আনাগোনা আর মানুষের কোলাহলে মুখর থাকত নদীর দুই তীর।
ছয় দশক আগের সেই সময়ের সাক্ষী,নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া, বাসিন্দারা বলে তাদের এই পুরনো স্মৃতি এখনো মনে পড়ে  তাঁর স্মৃতিতে, ছয় দশক আগেও মগড়া ছিল প্রমত্ত। সময়ের ব্যবধানে দখল ও দূষণে নদীটি এখন অনেকটাই নিশ্চল ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
নেত্রকোনা শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া মগড়া নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। বাসাবাড়ি, বাজার, কারখানা ও ক্লিনিকের বর্জ্যের পাশাপাশি পৌরসভার নর্দমার পানি পড়ছে নদীতে। এতে দূষিত হচ্ছে পানি, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ এবং নষ্ট হচ্ছে নদীতীরের পরিবেশ।ফ
দীর্ঘদিনের দাবির পর মগড়া নদী পুনর্জীবিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এ জন্য ৪৮ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদীর ৪১ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন এবং শহরের অংশে নদীর দুই পাড়ে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটার পথ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হকের বাংলাদেশের নদ-নদী গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের ফুলপুরের ধলাই নদ থেকে মগড়া নদীর উৎপত্তি। নদীটি নেত্রকোনা শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আটপাড়া ও মদন উপজেলা অতিক্রম করে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় ধনু নদে গিয়ে মিশেছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, মগড়া নদীর মোট দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১১৬ কিলোমিটার পড়েছে নেত্রকোনা জেলায়। নেত্রকোনা শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া অংশ প্রায় সাত কিলোমিটার এবং নদীটির গড় প্রস্থ ৩৮ মিটার।
মগড়া নদী নেত্রকোনা শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর দুই তীর ঘিরেই গড়ে উঠেছে শহরের বিস্তীর্ণ জনপদ। নদীর দুই অংশের যোগাযোগের জন্য শহরের ভেতরে রয়েছে অন্তত ছয়টি সেতু। এর মধ্যে মোক্তারপাড়া সেতু শহরের প্রধান সড়ক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।এ সময় মুক্তার পাড়া বাসিন্দারা বলে , ১৯৬৫ সালে মোক্তারপাড়া এলাকায় প্রথম পাকা সেতু নির্মাণের পর বড় নৌযানের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে ছোট ও মাঝারি নৌকা চলাচল করত। প্রায় নয় বছর আগে সেতুটি নতুন করে নির্মাণের পর নৌপথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে নদীর দুই পাড়ে দখলের চিহ্ন রয়েছে। আনন্দবাজার থেকে পাটপট্টি পর্যন্ত সাতপাই, নাগড়া, তেরিবাজার, ছোটবাজার, মোক্তারপাড়া, কাটলি ও পাটপট্টি এলাকায় নদীর জায়গা দখল করে বসতবাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
জেলা প্রশাসন ও পাউবোর হিসাব অনুযায়ী, সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) খতিয়ান অনুসারে নদীর দুই পাড়ে অন্তত ৩৮১টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। তবে বিআরএস (বাংলাদেশ রিভিশনাল সার্ভে) অনুযায়ী এ সংখ্যা ৪৯টি। এসব দখলকে কেন্দ্র করে ১০৪টি উচ্ছেদ মোকদ্দমা ও ২০টি দেওয়ানি মামলা হয়েছে।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ  ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা।
দখলের পাশাপাশি মগড়া নদীর বড় সংকট দূষণ। সাতপাই চক্ষু হাসপাতাল মোড়, কালীবাড়ি, পাটপট্টি, কাটলি, নাগড়া, থানা মোড় ও ঘুষের বাজার এলাকায় নদীর পাড়ে জমে আছে নানা ধরনের বর্জ্য। কাঁচা শাকসবজির উচ্ছিষ্ট, কারখানা ও ক্লিনিকের বর্জ্য এবং গৃহস্থালির আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার ১৩টি নর্দমার পানিও নদীতে পড়ছে। কোনো কোনো বাড়ির পয়োনিষ্কাশন সংযোগ থাকায় মলমূত্রও নদীতে গিয়ে পড়ছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, মগড়া নদী পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে নদী খননে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বাকি অর্থ শহরের অংশে নদীর দুই পাশে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটার ব্যবস্থা ও সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মগড়া নদী পুনঃখননের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নেত্রকোনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি ফসল রক্ষায়ও নদীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চলতি বছরের শুষ্ক মৌসুমে খননকাজ শুরু হবে। সাতটি প্যাকেজে সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বাস্তবায়ন করবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়টি জেলা প্রশাসন দেখছে।
নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক ,বলেন, মগড়া নদী দখলমুক্ত ও সংস্কার করে এটিকে একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
একসময় যে নদীর বুকে নৌযানের আনাগোনা আর মানুষের কোলাহল ছিল, দখল-দূষণে সেই মগড়া এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ। পুনঃখনন, দখলমুক্তকরণ ও দূষণ রোধের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যবাহী মগড়া নদী আবারও প্রাণ ফিরে পাবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd