কলমেঃ খাদিজা আক্তার জনি
আমার প্রাঙ্গণে ঋতুরা আসে,অতিথির মতো ক্ষণিক,
রঙের সম্ভার মেলে রেখে চলে যায় অনতিকালিক।
ফাল্গুনের আবির মেশে নগরের উল্লাসিত ধুলায়,
আমার শূন্য কপাল শুধু নৈঃশব্দ্যের তিলক পরায়।
দখিনা বাতাস বহন করে অচেনা মাধুর্যের ঘ্রাণ,
আমার অলিন্দে এসে তবু হারায় তার অভিসার-গান।
প্রকৃতি বদলায় অবলীলায়, পাল্টায় তার পরিধান,
আমার অন্তঃপুরে অনড় থাকে প্রস্তরীভূত অভিমান।
শীতের হিমলিপি মুছে সূর্য লেখে উষ্ণতার পত্র,
আমার শরীরে বসন্ত এলেও মন থাকে ঋতুব্যর্থ।
কত কালান্তর পেরিয়ে যায় সময়ের অনিবার্য স্রোতে,
আমার ভেতর চৈত্র জেগে থাকে দহন-উপাখ্যানে।
ক্যালেন্ডারের প্রতিটি পাতা ক্ষয়ের সাক্ষ্য বহন করে,
প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তিই দীর্ঘতর হয় অন্তরে।
যে স্বপ্নগুলো একদিন ছিল সম্ভাবনার নক্ষত্রপুঞ্জ,
আজ তারা নিভে পড়ে থাকে স্মৃতির ধূসর শ্মশানে।
হয়তো আমার নিয়তিতে বসন্তের কোনো অনুচ্ছেদ নেই,
হয়তো সুখের অভিধানে আমার নামের কোনো পদ নেই।
তাই চৈত্রের দাহনকে আর অভিশাপ বলে মানি না,
নিজের ভস্মস্তূপ থেকেই প্রতিদিন নতুন আমি জানি।
তবু যদি কোনোদিন নিয়তি তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে,
একফালি প্রশান্তি এসে দাঁড়ায় আমার অন্তর্গৃহের দ্বারে,
তাকে বলব অলংকার নয়, কোনো ঋতুর জয়গান নয়,
শুধু এতটুকু দিও আমার অন্তর্দাহেরও যেন অবসান হয়।
কারণ দীর্ঘ দহন শেষে মানুষ ফুলের প্রার্থনা করে না,
চোখের কাছে রঙ চায় না, উৎসবেরও আকাঙ্ক্ষা করে না
যে হৃদয় বহু চৈত্র অতিক্রম করে এসেছে একা,
সে শুধু একদিন নিজের ভেতরটাকে শীতল দেখতে চায়।