মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় ৩ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(৩)/৩০ ধারায় বিচারাধীন ছিল।
আদালতের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. আনিস ওরফে রানা, মো. সাইফুল ইসলাম এবং মো. দুলাল। তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, এই তিন আসামি জেল কোড অনুযায়ী সাজা মওকুফ বা রেয়াতের কোনো সুবিধা পাবেন না।
এছাড়া মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. আনিস ওরফে রানা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে একটি পেট্রলপাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহৃত হন। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তিন আসামি পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে এবং অপর তিনজন এ ঘটনায় সহযোগিতা করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগীকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরবর্তীতে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
রায়ে আদালত আরও নির্দেশ দেন, আসামিদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই রায়কে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা অভিহিত করেছেন।