• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
রাণীশংকৈল স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্মেলনের পরও কমিটি ঘোষণা হয়নি, আলোচনায় পলাশ-মনোয়ার-শাওনসহ কয়েকজন লোহাগাড়া সমিতি চট্টগ্রামের ত্রাণ বিতরণ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কবিতাঃ  বিচ্ছেদ সাংবাদিকের গায়ে হাত? ধর্মতলা কাঁপিয়ে জবাব দিল সাংবাদিক সমাজ জগন্নাথপুরে প্রথমবারের মতো কৃষি ঋণ বিতরণ শুরু করলো সকল ব্যাংক জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চট্রগ্রামের কিডস্ ক্লাবের বড় সাফল্য কবিতাঃ জগৎ জিততে হবে ​মুক্তিযোদ্ধারা কাঁদলে বাংলাদেশও কাঁদবে: এমপি আমীর এজাজ খান জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির জরুরী সভা: ১০ আগস্টের মধ্যে ওয়ার্ড কমিটি জমার নির্দেশ তাহিরপুরে জমি বিরোধে মামলা করায় নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম

প্রলোভনের আড়ালে সুগভীর চক্রান্ত হ্যাকিং চক্রের বলির পাঠা ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক মিলন

Reporter Name / ৪৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

 

খুলনা ব্যুরোঃ

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায় চাঞ্চল্যকর অনলাইন ক্যাসিনো ও সরকারি অর্থ হ্যাকিং চক্রের মূল হোতা রাব্বি শেখ অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এই আন্তর্জাতিক চক্রটি কেবল বড় বড় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং স্থানীয় নিরীহ ও সরল প্রকৃতির মানুষকে টাকার প্রলোভন ও সুগভীর ষড়যন্ত্রের জালে ফেলে বলির পাঁঠা বানিয়েছে। এমনই এক চক্রান্তের শিকার হয়ে এখন ফেরারি জীবনযাপন করছেন বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোড গ্রামের এক সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
​ষড়যন্ত্রের শিকার এক সরল ব্যবসায়ী
​অনুসন্ধানে জানা যায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার ভান্ডারকোড গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রশিদ শেখ ও রেবেকা খাতুনের পুত্র মোহাম্মদ মিলন শেখ এলাকায় একজন সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু তার এই সরলতার সুযোগ নেয় স্থানীয় এক প্রভাবশালী সাইবার অপরাধী চক্র।
​ভুক্তভোগী মিলন শেখের সাথে কথা বলে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ও রবি (Robi) সিমের এসআর (SR) জোবায়ের শেখ এবং বালিয়াডাঙ্গা শোলাকুড়া গ্রামের সাহাবুদ্দিন শেখের ছেলে (সম্প্রতি সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ক্যাসিনো হোতা) রাব্বি শেখ তাকে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও মোটা অঙ্কের মুনাফার প্রলোভন দেখায়। মিলন শেখের তীব্র আর্থিক অনটনের সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে তার নামে থাকা বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংক (BRAC Bank)-এর একটি অ্যাকাউন্ট এবং এর সমস্ত নথিপত্র ও নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
​অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কোটি টাকার আড়াল
​মিলন শেখ জানান, একজন সাধারণ মানুষ হওয়ায় সাইবার অপরাধ বা হ্যাকিংয়ের এই ভয়ানক অন্ধকার জগত সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। জোবায়ের ও রাব্বি শেখ মূলত মিলনকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তার এই ব্র্যাক ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করে বিআরটিএ (BRTA) এবং ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হ্যাক করা টাকা লেনদেন করতে থাকে।
​শুধু তাই নয়, দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তের শত শত সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া কোটি কোটি টাকাও এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। হ্যাকিং ও অনলাইন ক্যাসিনোর মূল লভ্যাংশ রাব্বি ও জোবায়ের ভোগ করলেও, কাগজে-কলমে ফেঁসে যান অ্যাকাউন্টধারী নিরীহ মিলন শেখ।
​পুলিশি তৎপরতা ও বিপাকে নিরপরাধ পরিবার
​সম্প্রতি সিআইডি ঢাকা হেডকোয়ার্টারের একটি বিশেষ দল খুলনায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মূল হোতা রাব্বি শেখকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করার পর পুরো এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। রাব্বি বর্তমানে জেলহাজতে থাকলেও তার অন্যতম সহযোগী জোবায়ের শেখসহ চক্রের অন্য সদস্যরা এখনো অধরা রয়ে গেছে।
​এদিকে, অপরাধের মূল ট্রানজেকশন মিলন শেখের ব্র্যাক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে হওয়ায় বর্তমানে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতারিত হওয়া সাধারণ মানুষ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিনিয়ত আসছে তীব্র হুমকি ও মানসিক চাপ। অথচ মূল অপরাধী ও কোটি কোটি টাকার আসল সুবিধাভোগী রাব্বি ও জোবায়ের আড়ালে থাকলেও, কেবল সরলতার খেসারত দিয়ে আজ মিলন শেখ ও তার পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে।
​সুষ্ঠু তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাব্বি ও জোবায়ের চক্রের মতো সাইবার অপরাধীরা অত্যন্ত চতুর। তারা সবসময় নিজেদের আইনি জটিলতা থেকে আড়াল করতে মিলন শেখের মতো নিরীহ ও অসচ্ছল মানুষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে।
​পুলিশ প্রশাসন ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, এই ঘটনার গভীরে গিয়ে যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়। মিলন শেখের উক্ত ব্র্যাক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, আইপি লোকেশন (IP Location) এবং মোবাইল কল রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, এই অ্যাকাউন্টটি আসলে কারা পরিচালনা করত এবং এর পেছনের মূল সুবিধাভোগী কারা। একজন নিরপরাধ ও প্রতারিত মানুষ যাতে এই হ্যাকিং চক্রের বলির পাঁঠা না হয়, প্রশাসনকে সেই বিষয়টি মানবিক ও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd