মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব সত্য ও জনস্বার্থের তথ্য তুলে ধরা। তবে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও দেখিয়ে অর্থ দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুতর। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক নারীর ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
মামলায় রাণীশংকৈল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহলবাড়ী এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে মো. মাহাবুব আলম (৩০)সহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। রাণীশংকৈল থানার মামলা নম্বর-২৮, তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৬।
থানায় দেওয়া এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন দুপুরের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ভয়ভীতি দেখান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় মো. আল আমিন (৩০) ও মো. জনি (২০) তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ধারণ করা ভিডিও ও ছবি অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন ২৩ জুন সকালে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মো. মাহাবুব আলম ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একটি ভিজিটিং কার্ড দেন। এরপর তার কাছে থাকা ব্যক্তিগত ভিডিও দেখিয়ে তা প্রকাশ না করার বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় মো. আল আমিন (৩০), মো. জনি (২০), মো. জামিন (২৫), মো. সুজন (৩০) ও মো. মাহাবুব আলম (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় জোরপূর্বক ধর্ষণ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহাবুব আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে কিছু সাংবাদিক আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। তদন্তে মাহাবুব আলম দোষী হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী নারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।