মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে:
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পেঁপের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। ক্ষেতেই কেজি প্রতি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে দাম কমে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। গাছে পাকা পেঁপে ঝুলে আছে, অনেক পেঁপে মাটিতে পড়ে পচে নষ্ট হচ্ছে।
গোপালনগর গ্রামের চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, দুই বিঘা জমিতে ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পাইকাররা ২-৩ টাকা কেজি দর বলছে। এ দামে শ্রমিক ও ভ্যান ভাড়াও উঠবে না।
উত্তর কানাইনগর গ্রামের চাষি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “৬ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করে বিপাকে পড়েছি। দাম এত কম যে ক্ষেতে যেতেও ইচ্ছে করে না।” আরেক চাষি তাজুল সিকদার রাগে দুই বিঘা জমির গাছ কেটে ফেলেছেন বলে জানান।
চাষিদের অভিযোগ, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। কিন্তু হিমাগার না থাকায় পচনশীল পেঁপে সংরক্ষণ করতে পারছেন না তারা।
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কিশোর আহমেদ বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে এবং ফলন ভালো হয়েছে। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম সাময়িক কমেছে। পেঁপে সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।