মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ও সায়েস্তা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পূর্ব বান্দাইল মোড় থেকে ইদ্রিস মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। রাস্তার এক স্থানে মাঝ বরাবর ভেঙে কয়েক ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ছয় গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা জানান, কয়েক যুগ আগে রাস্তাটিতে মাটি ফেলা হলেও এরপর স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। কিছুদিন আগে ইদ্রিস মিয়ার বাড়ি থেকে পরবর্তী অংশে ইটের সলিং করা হয়েছে। তবে পূর্ব বান্দাইল মোড় থেকে ওই বাড়ি পর্যন্ত অংশটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংশ্লিষ্টদের নজরে পড়ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।
রাস্তাটি দিয়ে দুটি মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কৃষিপণ্য পরিবহন ও কবরস্থানে মরদেহ নেওয়ার ক্ষেত্রেও রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভাঙা ও গর্তের কারণে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্থানীয়দের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় নুরু মিয়া বলেন, বছরের পর বছর রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বাড়ে। জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
আব্দুল মতিন বলেন, ছয় গ্রামের মানুষের জন্য রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ দৈনন্দিন কাজে নানা সমস্যা হচ্ছে।
বিল্লাল হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় কাদা-পানি জমে যায়। বর্তমানে গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
সায়েস্তা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি ইটের সলিং করার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য ভাঙা অংশে একটি কালভার্ট নির্মাণ জরুরি।
চান্দহর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তারিকুর রহমান আলাল বলেন, তিনি রাস্তার ভাঙা অংশটি দেখে এসেছেন। স্থানীয়দের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিজ অর্থায়নে সেখানে একটি বাঁশের মাচা তৈরি করে দেবেন, যাতে ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারে। এ ছাড়া ইউপি সচিবের সঙ্গে আলোচনায় প্রকল্পের মাধ্যমে সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহীন হোসেন বলেন, ভাঙা স্থানে কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও টেন্ডার হলে কাজ শুরু হবে। তবে সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।